মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সাথে বৈঠক করবেন।
দুই নেতার আদর্শগত ভিন্নতার কারণে সম্পর্ক সবসময়ই টানাপোড়েনপূর্ণ ছিল, তবে এবার নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ আলোচনার মূল এজেন্ডা।
আমেরিকার দুই বৃহত্তম অর্থনীতির নেতৃত্বে থাকা এই দুই নেতা অতীতে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধে জড়ালেও সাম্প্রতিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছেন।
লুলা আসন্ন অক্টোবরের নির্বাচনের আগে দেশে নিজের ভাবমূর্তি শক্ত করতে চান। অন্যদিকে ট্রাম্প ব্রাজিলের কৌশলগত খনিজ সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে নির্বাচনের আগে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন লুলা। ধারণা করা হচ্ছে, এই নির্বাচন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ব্রাজিলের কৌশলগত খনিজ সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
গত জুলাই মাসে ট্রাম্প ব্রাজিলের সব পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেন। যা তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলা ‘ষড়যন্ত্রের’ শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। বলসোনারো বর্তমানে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
লুলা প্রকাশ্যে এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণ ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন।
তবে একাধিক বৈঠক ও ফোনালাপের পর দুই নেতার সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হয়। এক পর্যায়ে ট্রাম্প দুইজনের মধ্যে ‘চমৎকার বোঝাপড়া’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের ওপর আরোপিত শুল্ক আংশিকভাবে কমিয়েছে।
লুলা বর্তমানে কংগ্রেসে ধারাবাহিক পরাজয়ের কারণে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় আছেন। জনমত জরিপে তিনি বলসোনারোর জ্যেষ্ঠ পুত্র সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর সঙ্গে সমান অবস্থানে রয়েছেন। অভিজ্ঞ এই বামপন্থী নেতা চতুর্থবারের মতো (অবিরত নয়) মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে চান।
গ্যাংবিরোধী লড়াই ব্রাজিলের ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ নিরাপত্তা। তাই সংগঠিত অপরাধ দমনে সহযোগিতা আলোচনার অন্যতম বিষয়। এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল অস্ত্র ও মাদক পাচার রোধে তথ্য বিনিময়ের চুক্তি করেছে। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ‘নারকোটেররিজম’-এর বিরুদ্ধে লড়াইকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ব্রাজিল চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন তাদের শক্তিশালী গ্যাংগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা না করে।
দুর্লভ খনিজের প্রতিযোগিতা ব্রাজিলের বিশাল বিরল খনিজ সম্পদও আলোচনার অংশ। যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ প্রযুক্তি পণ্যের জন্য এসব খনিজে বিনিয়োগ করতে চায়। ব্রাজিল চায় বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের ফ্রি ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম ‘পিক্স’ নিয়ে তদন্ত করছে, যা মার্কিন কোম্পানির প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ।