পেশাদারিত্ব, খেলোয়াড়দের কল্যাণ ও সততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যের সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আনা একাধিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ২০২৫-২৬ মৌসুম।
টুর্নামেন্টের কাঠামো ও সময়সূচি সংক্রান্ত বিষয় চলতি সপ্তাহের শুরুতে চূড়ান্ত করেছে ঢাকা মহানগর ক্রিকেট কমিটি (সিসিডিএম) এবং বিসিবি। আগামী ১১ জুন পর্দা নামবে ডিপিএলের।
আজ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এক সংবাদ সম্মেলনে, ড্রেসিংরুমে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা জানান। তিনি বলেন, মাঠে প্রবেশের সময় খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন জমা দিতে হবে।
তামিম বলেন, ‘এবার ড্রেসিংরুমে কেউ ফোন ব্যবহার করতে পারবে না।’ আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালা মেনে চলার অংশ হিসেবে ক্রিকেট বোর্ডগুলো এমন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।
তামিম জানান, প্রশাসনিক অচলাবস্থার পর ডিপিএল পুনরুজ্জীবিত করা বিসিবির নতুন অ্যাডহক কমিটির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল।
অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তামিম বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য এটি আমাদের ক্রিকেট ইকোসিস্টেমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট।’
একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো- দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এখন থেকে বিভিন্ন ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ক্লাবগুলোর নিজস্ব খাবারের ব্যবস্থা করবে বিসিবি। বোর্ডের লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করা, যদিও তামিম স্বীকার করেছেন যে, খেলোয়াড়দের নতুন খাদ্যাভ্যাসের সাথে মানিয়ে নিতে সময় লাগতে পারে।
টুর্নামেন্টের জন্য খেলোয়াড়দের চিকিৎসা ব্যবস্থারও জোরদার করেছে বিসিবি। জরুরি পরিস্থিতিতে ছয়টি ভেন্যুতে আইসিইউ-সজ্জিত ইউনিটসহ একাধিক অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। তামিম বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি টুর্নামেন্টের সাথে জড়িত সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’
তামিম জানান, ডিপিএলের নতুন মৌসুম দেশের প্রধান ঘরোয়া ওয়ানডে প্রতিযোগিতায় আরও সুসংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতির সূচনা করবে।
টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে বিসিবি ফরম্যাট সংশোধন করায় এবার সুপার লিগ বা রেলিগেশন লিগ ছাড়াই ডিপিএল অনুষ্ঠিত হবে।
সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী প্রতিযোগিতায় মোট ৬৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যা পূর্বে ছিল ৬৯টি। রেলিগেশন লিগ বাতিল হওয়ায় ৩টি ম্যাচ কমে গেছে।
এবারের ডিপিএলে রেলিগেশন পর্ব থাকছে না। তারপরও পয়েন্ট টেবিলের ভিত্তিতে রেলিগেশনের দল ঠিক করা হবে। লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের তলানির দুই দল প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে নেমে যাবে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দল চ্যাম্পিয়ন এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল রানার্স-আপ হবে।
ঢাকা লিগ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হিসেবে পরিচিত এবং অংশগ্রহণকারী ১২টি দলের প্রায় ২শ জন ক্রিকেটারের এটি আয়ের প্রধান উৎস বিবেচিত হয়।
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, আবাহনী লিমিটেড এবং ঢাকা লেপার্ডসের মতো ঐতিহ্যবাহী দলগুলো শক্তিশালী দল সাজিয়েছে। অন্যান্য দলগুলোও লড়াকু দল গড়েছে।
শুরু থেকেই জাতীয় দলের বেশ কিছু ক্রিকেটারকে পাওয়া যাবে না। কারন ৮ মে থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট খেলতে নামবে খেলোয়াড়রা। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর সবাইকে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বিকেএসপি গ্রাউন্ড ৩ ও ৪, ক্রিকেটার্স অ্যাকাডেমি গ্রাউন্ড, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি গ্রাউন্ড, পিকেএসপি গ্রাউন্ড ২ এবং ইউল্যাব ইউনিভার্সিটি গ্রাউন্ডসহ মোট ছয়টি ভেন্যুতে ডিপিএলের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্রঃ বাসস