অলি উল্লাহ রিপন, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল এলাকায় গত মঙ্গলবার বিকেলে সংঘটিত এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে নিরপরাধ উজ্জ্বল কর্মকার নিহত হয়েছেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তা ও দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিন পার করছে। ভিটেমাটি ছাড়া আর কোনো সহায়-সম্বল না থাকায় পরিবারটি বর্তমানে দিশেহারা অবস্থায় রয়েছে।
শুক্রবার সকালে এমপি মহোদয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল নিহত উজ্জল কর্মকারের বাসায় যান। সেখানে ভিডিও কলে উজ্জল কর্মকারের একমাত্র কন্যা সন্তান এবং তার সহধর্মিণীর সাথে কথা বলে খোঁজখবর নেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারকে শান্তনা দেন। এ সময় তিনি নিহতের কন্যার লেখাপড়া এবং স্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুয়ায়ী চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
নিহত উজ্জল কর্মকারের একমাত্র কন্যা সন্তান চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া অঙ্কিতা বলেন, আমাদের এই শোকের মাঝে এমপি মহোদয় খোঁজ নিয়েছেন, আমার দায়িত্ব নিয়েছেন আমি তার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
নিহত উজ্জল কর্মকারের স্ত্রী মিনা রানী দাস বলেন, এমপি মহোদয় তার প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। আমি একমাত্র সন্তান নিয়ে পরবর্তী জীবনে যেন ডালভাত খেতে পারি সেজন্য এমপি মহোদয় আমাকে শিক্ষাসনদ অনুযায়ী একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেবে। আমি তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার এই বিপদে এমপি মহোদয় আমার পাশে এসে দাড়িয়েছে। আমি এটা কখনোই ভুলবো না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় উজ্জ্বলের সঙ্গে যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারের কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। এমনকি একটি ফোন কলের মাধ্যমেও সমবেদনা না জানানোয় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উজ্জ্বলকে যারা ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের এই উদাসীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাউফলের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। উজ্জ্বল কর্মকারের পরিবারের বর্তমান দুরবস্থা এবং তার একমাত্র কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় তিনি তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। প্রতিনিধিদল পরিবারটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে পরিবারের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। স্থানীয়রা উজ্জ্বল কর্মকার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। একইসঙ্গে তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন।