মোঃ মোস্তাকিম, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ৩ বছরের শিশু লাবিব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘাতক পিতা সোহাগ মিয়া ও সৎ মা জাকিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে ত্রিশাল থানা পুলিশ।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজ সন্তানকে গলা টিপে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ঘাতক পিতা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের কারণে নিহত লাবিবের মা লামিয়া দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গত বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে পিতা সোহাগ মিয়া শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শিশু লাবিবকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। কথা ছিল ওইদিন সন্ধ্যায় শিশুটিকে পুনরায় তার নানার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
কিন্তু সন্ধ্যায় নানার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার পরিবর্তে উপজেলার রায়ের গ্রাম এলাকার একটি রাস্তার পাশে শিশুটির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ত্রিশাল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই অপরাধীদের ধরতে অভিযানে নামে পুলিশের একাধিক টিম। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে গফরগাঁও থানার যশোরা ইউনিয়নের বাখুরা গ্রাম থেকে আত্মগোপনে থাকা সোহাগ মিয়া (৩০) এবং তার সহযোগী জাকিয়া আক্তারকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ মিয়া স্বীকার করেছে যে, সে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজের সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এই নৃশংস ঘটনায় নিহত শিশুর মা লামিয়া বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ত্রিশাল থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ মিয়াকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অপর আসামি জাকিয়া আক্তারকে আইনি প্রক্রিয়ায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।