মোহাম্মদ সেলিম, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ
ঈদগাঁও ও রামু উপজেলার মাঝামাঝি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়ক ও ঈদগড় এলাকা ক্রমেই ডাকাতদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে-এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেখানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে রামু ও ঈদগাঁও থানা পুলিশ। এই যৌথ অভিযানে ডাকাত দলের ২ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিফাতুল মাজহার ও রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া সহ পুলিশের ৪টি টিম গঠন করে এবং বন বিভাগের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
প্রায় শতাধিক সদস্যের এই টিম পাহাড়ের পাদদেশ ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে তল্লাশি চালায়। ঈদগাঁও ওসি সহ একটি দল ঈদগাঁও উপজেলার কালিছড়া থেকে পাহাড়ে অভিযান শুরু করে, রামু থানার ওসির নেতৃত্বে ৩টি দল ঈদগড়, জোয়ারিয়ানালা ও রশিদ নগর গহীন পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত অভিযানে চিহ্নিত ২ জন ডাকাত আটক করতে সক্ষম হয় বলে জানান রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতরা হলেন- পানির ছড়া তলিয়াঘোনা এলাকার আব্দু রশিদের ছেলে আব্দুর রহমান (৩৮)। জানা যায়, তার বিরুদ্ধে ৪টি ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার রয়েছে। অপর জন হলেন- ঈদগড় ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড পানিশ্যঘোনা এলাকার কবির আহাম্মদের ছেলে অপহরণ চক্রের সদস্য নুরুল আমিন পুতিয়া।
অভিযানটি চলে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত। পরে ভাদিতলা এলাকা দিয়ে টিমটি বের হয়ে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- সম্প্রতি এই পাহাড়ি এলাকায় ডাকাত ও অপহরণকারীদের তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। কয়েকদিন আগে রাবার বাগানে কর্মরত দুই শ্রমিককে অপহরণ করে একটি চক্র। পরে মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজমান।
অভিযান শেষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান- আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের চক্র শনাক্ত ও দমন করতে কাজ করছে পুলিশ। ডাকাতি ও অপহরণ ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে তারা দ্রুত স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের দাবি জানান।