বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো কমনওয়েলথ থেকে পাকিস্তানকে সরিয়ে নিয়েছিলেন।সেই ভুট্টোই দুই বছরের মাথায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানকে আলিঙ্গন করে উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নিয়েছিলেন লাহোর বিমানবন্দরে।
লাহোর বিমানবন্দরে সেদিন শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানানো হয় ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে উত্তোলন করা হয় বাংলাদেশের পতাকা, লাউড স্পিকারে বাজানো হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।
তারিখটি ছিল ২৩শে ফেব্রুয়ারি, সাল ১৯৭৪। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নয় মাস পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকার পর সেটিই ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম পাকিস্তান সফর। লাহোরে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স, ওআইসি’র দ্বিতীয় সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশের সাত সদস্যের দলের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ মুজিব।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল যদিও ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতেই লাহোর গিয়েছিল, তারা সম্মেলনের শহরে পৌঁছায় তিনদিনের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন – মূল সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর একদিন পর।
কারণ আগের দিন ২২শে ফেব্রুয়ারি জুলফিকার আলী ভুট্টো বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পরই শেখ মুজিব লাহোরে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
লাহোরে অনুষ্ঠিত হওয়া ওআইসি’র সেই সম্মেলনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাই ছিল বাংলাদেশকে পাকিস্তানের স্বীকৃতি দেয়া।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম গুলোয় ফলাও করে প্রচার করা হয়েছিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা ও সেটির সঙ্গে সম্পৃক্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো।