জেলায় গণহত্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে রাজবাড়ী ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসন, জেলা তথ্য অফিস এবং রাজবাড়ী ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় নতুন প্রজন্মের মাঝে স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে এ স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মৃতিচারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন নাহার চৌধুরী ও জেলা তথ্য কর্মকর্তা রেখা ইসলাম।
সভায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন, রাজবাড়ী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক খন্দকার হেলাল উদ্দিন, যুদ্ধকালীন কমান্ডার বাকাউল আবুল হাসেম, যুদ্ধকালীন কমান্ডার মো. সিরাজ আহম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুতালেব, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট আব্দুল গফুরসহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ।
সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তালেব বলেন, রাজবাড়ী জেলার মুক্তিযুদ্ধ মুলত পাক বাহিনীর সাথে হয়নি, হয়েছিল অবাঙালীদের সাথে। যে কারণে সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর কিন্তু রাজবাড়ীতে শেষ হয়েছে ১৮ ডিসেম্বর।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট আব্দুল গফুর বলেন, ২৫ মার্চ যুদ্ধ শুরু হবার পর ২১ এপ্রিল গোয়ালন্দ ঘাট দিয়ে হানাদাররা আমাদের রাজবাড়ীতে আক্রমণ চালায়। বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ আহম্মেদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই আমরা অর্জন করেছি আমাদের গৌরবদীপ্ত স্বাধীনতা। এ যুদ্ধ না হলে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করতে পারত না। বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন বলেন, একখন্ড স্বাধীনতার কথা আওয়ামী বাকশালীরা আমাদের তরুণদের মাঝে বিভ্রাট সৃষ্টি করে ছিল।
সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, পুরনো এ্যালবামের ছবি গুলো আমাদেরকে আমাদের সেই রণাঙ্গনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
বাকাউল আবুল হাসেম রাজবাড়ীর গণহত্যা সম্পর্কে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার পর পাক সেনারা আরিচা ঘাট দিয়ে নদী পথে গোয়ালন্দ ঘাট দিয়ে, খানখানাপুরে এসে পাটের গুদাম গুলো জ্বালিয়ে দেয়। শুরু করে নানা নির্যাতন গণহত্যা এবং নিষ্পেষণ।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে আমাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।