মোহাম্মদ সেলিম, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নে সরবরাহ করা নিম্নমানের ও খাবার অনুপযোগী ভিজিএফের চাল ফেরত দিয়ে অবশেষে পুনরায় খাবারযোগ্য চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে এই ব্যবস্থা নেওয়ায় উপকারভোগী গরিব, অসহায় ও দুস্থ পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টায় ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে পুনরায় ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হাকিম, ট্যাগ অফিসার দিদারুল ইসলাম এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বরূপা শর্মা উপকারভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম জানান, গেলো বুধবার (১১ মার্চ) সরবরাহ করা ভিজিএফের চাল বিতরণ করতে গিয়ে দেখা যায় চালগুলো নষ্ট, দুর্গন্ধযুক্ত এবং অত্যন্ত নিম্নমানের। এসব চাল খাবারের জন্য অনুপযোগী ছিল। এছাড়া ৩০ কেজি ওজনের প্রতিটি বস্তায় ১ থেকে ২ কেজি পর্যন্ত চাল কম পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, প্রতিটি বস্তা থেকে তিনজন উপকারভোগীর মধ্যে ১০ কেজি করে চাল ভাগ করে দেওয়ার কথা থাকলেও চালের স্বল্পতা ও নিম্নমানের কারণে বিতরণ কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে ওই দিনই চালগুলো ফেরত দেওয়া হয়।
ফেরত দেওয়া চালের পরিবর্তে শনিবার সরকারি গুদাম থেকে নতুন চাল ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছে। রবিবার সকাল থেকে সেগুলো পুনরায় উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ শুরু করা হয়।
চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, ইউনিয়নের দেড় সহস্রাধিক অসহায় পরিবারের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে দেওয়া মাত্র ১০ কেজি ভিজিএফ চাল যদি খাবারযোগ্য না হয়, তাহলে অভিভাবক হিসেবে তা খুবই কষ্টের বিষয়। তবে কিছুটা দেরি হলেও কর্তৃপক্ষ ফেরত দেওয়া চালের পরিবর্তে খাবারযোগ্য চাল পাঠিয়েছে, এজন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের ১৬৬০টি পরিবারের জন্য প্রতি পরিবারে ১০ কেজি করে মোট ১৬ হাজার ৬০০ কেজি ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।