কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে মালিকানা জমি খাস-খতিয়ানে রেকর্ড করে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে ও জলমহাল উন্মুক্ত রাখার দাবিতে রাষ্ট্র সংস্কার কৃষক আন্দোলন, পৌর শাখার ব্যানারে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় কৃষক ও জেলেরা।
আজ সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ১১টায় ঘন্টাব্যাপী কুড়িগ্রাম পৌরসভার চর হরিকেশ এলাকার মাল্লির পাড় গ্রামে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন বক্তব্য রাখেন, রাষ্ট্র সংস্কার কৃষক আন্দোলন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম জুয়েল, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, সদর উপজেলা শাখার তারা মিয়া, সদর উপজেলা শাখার সদস্য আব্দুর রহিম, পৌর শাখার শাহিন মিয়া, কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড মৎস্য জীবি সমিতির সাবেক সভাপতি শাহজাহান আলী, সদস্য ফরহাদ, কুদ্দুস, মোকছেদুল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, পলাশবাড়ী জলমহাল দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে লীজের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যা পূর্বে উন্মুক্ত ছিলো। বর্তমানে কোন জেলে একদিন মৎস্য শিকার করলে তাকে দিন প্রতি লীজধারী ব্যক্তিকে ১০০-২০০ টাকা দিতে হচ্ছে। কোন জেলে খড়া জাল দিয়ে টানা ৬ মাস মাছ ধরলে তাকে দিতে হচ্ছে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। আবার কোন জেলে সুতা জাল টানা ৬ মাস মাছ শিকার তাকে হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। এতে করে জীবিকা নির্বাহ চরম বিপাকে রয়েছে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ড মৎস্যজীবি সমিতির ৪৮ জন জেলে। ফলে জীবিকায় ভাটা পরায় মানবেতর ও দূর্বিষহ জীবনযাপন করছে এসব জেলে পরিবার। তাই অবিলম্বে পলাশবাড়ী জলমহালটির ইজারা বাতিলের মাধ্যমে উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানানো হচ্ছে।
"কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড মৎস্য জীবি সমিতির সাবেক সভাপতি শাহজাহান আলী বলেন, আমরা ১৫ বছর আগে স্বাধীনভাবে এই জলাশয়ে মাছ ধরেছি। সে সময়ে কোন টাকা পয়সা দেয়া লাগতো না। বর্তমানে মাছ শিকার করলে টাকা দিতে হচ্ছে। আমরা আর টাকা পয়সা দিতে চাই না। আমরা চাই জলমহাল উন্মুক্ত করে দেয়া হোক।"
রাষ্ট্র সংস্কার কৃষক আন্দোলন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, "যে আইন খেটে খাওয়া মানুষের ক্ষতি করে সে আইন আমরা চাই না। অবিলম্বে সেই আইন বাতিল করে জলমহাল উন্মুক্ত করা হোক।"