মোহাম্মদ সেলিম, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে এক তরুণীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভিকটিমের লুণ্ঠিত প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) ঈদগাঁও থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মার্চ সকাল আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে ঈদগাঁও থানার জালালাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মোহনভিলা এলাকার নিজ বাড়ির সামনে থেকে এক তরুণীকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন একটি অজ্ঞাত ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে ৩ মার্চ রাত থেকে ৬ মার্চ সকাল পর্যন্ত তাকে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অভিযুক্তরা ভিকটিমের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় এবং টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় বলেও জানায় পুলিশ। ঘটনার পরপরই ঈদগাঁও থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। অভিযানের এক পর্যায়ে তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের বদিউর রহমানের ছেলে আতিক উল্লাহ (২১), ঈদগাঁও থানার জালালাবাদ ইউনিয়নের বটতলী পাড়া এলাকার ছব্বির আহমদের ছেলে ছৈয়দুল করিম (২২) এবং জালালাবাদ খোনখারখীল এলাকার আইয়ুবুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন (২১)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের কাছ থেকে ভিকটিমের মায়ের লুণ্ঠিত একটি ২ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, ৪ আনা ওজনের দুটি আংটি এবং ১২ আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের মোট ওজন প্রায় ৩ ভরি।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা রোকিয়া বেগমের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঈদগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭/৯(১)/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৩৭৯/৪১১/১০৯/৩৮৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং–০৪, তারিখ: ০৬ মার্চ ২০২৬)।
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিফাত মাজদা'র জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের শনিবার (৭ মার্চ) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত আরও ২-৩ জন অজ্ঞাতনামা আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।