সাইফুল ইসলাম, বানারীপাড়া প্রতিনিধিঃ
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের গর্ব আলী আহমদ এবার অনুবাদ সাহিত্যে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার–২০২৬ অর্জন করেছেন। তাঁর এই সম্মাননা শুধু বানারীপাড়া নয়, সমগ্র বরিশালবাসীর জন্য আনন্দ ও গৌরবের খবর।
মমতাজ উদ্দিন আহমদ ও হাসিনা বানুর জ্যেষ্ঠ সন্তান আলী আহমদ শৈশব থেকেই সাহিত্যপ্রেমী। গল্প, উপন্যাস ও বিশ্বসাহিত্যের নানা ধারা নিয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল গভীর ও আন্তরিক। উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে। পরে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। কর্মজীবনে সততা ও পেশাগত দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখান থেকেই অবসর গ্রহণ করেন।
দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অনুবাদ-সাহিত্যে নিবেদিত থেকেছেন। বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় সাবলীল অনুবাদের মাধ্যমে তিনি নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য তৈরি করেছেন। অনুবাদক হিসেবে যেমন খ্যাতি অর্জন করেছেন, তেমনি সাহিত্য-সমালোচক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি সুপ্রতিষ্ঠিত।
তাঁর অনূদিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বারো অভিযাত্রীর কাহিনী ও প্রেম ও অন্যান্য দানব (লেখক: Gabriel Garcia Marquez), শিকার ও অন্যান্য গল্প (লেখক: Kenzaburo Oe), চোর ও সারমেয় সমাচার ও খোঁজ (লেখক: Naguib Mahfouz), হে সুন্দর, হে বিষণ্নতা (লেখক: Yasunari Kawabata), পাস্কুয়াল দুয়ার্তের পরিবার (লেখক: Camilo Jose Cela), মৎস্য রাজকুমারী (লেখক: Hans Christian Andersen)।
এছাড়াও ‘নোবেলজয়ীদের ছোটগল্প’, ‘বিশ্বসাহিত্যের আঙিনায়’, ‘বিশ্বসেরা ছোটগল্প’ ও ‘আমার সাক্ষ্য’সহ আরও বহু গ্রন্থ তাঁর অনুবাদ-সাধনার সাক্ষ্য বহন করে।
বিশ্বসাহিত্যের বহুভাষিক ভাণ্ডার থেকে নির্বাচিত রচনাকে বাংলা ভাষায় রূপান্তরের মাধ্যমে তিনি পাঠকদের সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। সংস্কৃতি ও ভাষার ভিন্নতা অতিক্রম করে সাহিত্যকে একসূত্রে গেঁথে তোলাই তাঁর কাজের মূল শক্তি।
আলী আহমদের এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে অনুবাদ-সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘ সাধনার ফল। একই সঙ্গে এটি বানারীপাড়া ও বরিশালবাসীর জন্য এক অনন্য সম্মানের বিষয়।