লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের তিনবারের সাংসদ নিজানকে মন্ত্রী চান রামগতি-কমলনগরবাসী

মোঃ হাসান হাওলাদার, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি নেতা এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। তাঁর এই হ্যাট্রিক জয়ের পর এখন রামগতি ও কমলনগর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের দাবি— তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই জনপ্রিয় নেতাকে নতুন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হোক।

স্থানীয় ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, নিজান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, বরং মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখের বিশ্বস্ত নাম। বিগত সময়ে সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি রামগতি ও কমলনগরের নদী ভাঙন রোধ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চরাঞ্চলের মানুষের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। এবার তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার চায়ের আড্ডায় তাঁকে ‘মন্ত্রী’ হিসেবে দেখার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

কেন তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে চায় জনতা? স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ তুলে ধরছেন: ২০০১ এবং ২০০৮ সালের পর ২০২৬ সালের নির্বাচনেও তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সংসদীয় অভিজ্ঞতা তাঁকে মন্ত্রিসভার জন্য যোগ্য করে তুলেছে।

রামগতি ও কমলনগরের প্রধান সমস্যা মেঘনার নদী ভাঙন। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, তিনি মন্ত্রী হলে এই অঞ্চলের স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং মেঘনা উপকূলীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

অবহেলিত চরাঞ্চল ও উপকূলীয় জনপদের সামগ্রিক উন্নয়নে একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর অভাব দীর্ঘদিন ধরে অনুভব করছে এই এলাকার মানুষ।

উপজেলা বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, “নিজান ভাই তিনবারের নির্বাচিত এমপি। তিনি দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের আগলে রেখেছেন এবং এলাকার উন্নয়নে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন। রামগতি-কমলনগরের মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়া, আমাদের এই অভিভাবককে এবার মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে বৃহত্তর নোয়াখালী ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নের সুযোগ করে দেওয়া হোক।”

রামগতি বাজারের একজন সাধারণ ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা শুধু এমপি নয়, এবার রামগতি-কমলনগর থেকে একজন মন্ত্রী চাই। নিজান সাহেবের হাত ধরে আমাদের এই অবহেলিত জনপদ বদলে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”

এখন দেখার বিষয়, রামগতি ও কমলনগরবাসীর এই প্রাণের দাবি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কতটা গুরুত্ব পায়। তবে স্থানীয়রা আশাবাদী, দলের নীতিনির্ধারক মহল তৃণমূলের এই সেন্টিমেন্টকে মূল্যায়ন করবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *