মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
নির্বাচিত হলে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়েত এর কোন ভেদাভেদ থাকবেনা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে যে সকল নিরীহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আছেন তাদের সকল মামলা প্রত্যাহার করা হবে। সকলে মিশেমিশে এই সমাজে বসবাস করবো।
বরগুনা জেলার মানুষ যদি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন তাহলে আওয়ামী লীগ নেতা- কর্মীরা যারা দিল্লি ও কোলকাতায় আছেন তাদের চেয়ে বরগুনায় অনেক ভাল থাকবেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আমতলী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভায় ওইসব কথা বলেন বরগুনা- ১ (সদর- আমতলী- তালতলী) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বরগুনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা।
নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ২০০১ সালের উপ-নির্বাচনের পর বিএনপি সরকারের সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে অবহেলিত আমতলী- তালতলীতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। তখন আমতলী-তালতলী-ফকিরহাট পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ, আমতলী- তালতলীর অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ, ব্রীজ কালভার্ট নির্মাণ ও বিদ্যুৎ সুবিধা সেই সময়েই বাস্তবায়িত হয়েছে।
তখন সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মরহুম আলহাজ্ব মো. মতিয়ার রহমান তালুকদারের হাত ধরেই আমতলী ও তালতলীবাসী উন্নয়নের সুফল পেয়েছিল। এরপর বিগত ১৭ বছরে আমতলী ও তালতলীতে কাঙ্খিত কোন উন্নয়ন হয়নি।
একটি দল ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, ভোট দিয়ে কেউ জান্নাতে যেতে পারে না। জান্নাতে যেতে হলে রাসুল (সা.)-এর দেখানো পথে কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী জীবনযাপন পরিচালনা করতে হবে। কিছু রাজনৈতিক দল ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মুসলমান ও মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। ধর্মকে ভোটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে আমতলী- তালতলীতে দৃশ্যমান কোনো বড় উন্নয়ন হয়নি, মানুষ এখনো মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আমতলী- তালতলীতে নতুনভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে। রাস্তাঘাট উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী সবাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন এবং অন্যদেরও ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করবেন।
আমতলী উপজেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকিরের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মো. তুহিন মৃধার সঞ্চালনায় নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত ছিলেন, বরগুনা জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. ফজলুল হক মাষ্টার, আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো.জহিরুল ইসলাম মামুন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামে সুপ্রিম কোর্টের সদস্যসচিব অ্যাডঃ তৌহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোঃ জহিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. মকবুল হোসেন খান, অ্যাডঃ নাসির উদ্দিন তালুকদার, মো.কামরুজ্জামান হিরু, তারিকুল ইসলাম টারজান, পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক মো.কবির উদ্দিন ফকির, সদস্যসচিব মো. জালাল আহমেদ খান, ছাত্রদল সভাপতি সোয়েব হেলাল, সম্পাদক ইমরান খান, সেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আরিফুর রহমানসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
আমতলী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের জনসভায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভার হাজার হাজার নেতা- কর্মী ও সাধারণ জনগন ধানের শীষের মিছিল নিয়ে অংশগ্রহন করেন। এক পর্যায়ে জনতার ঢলে জনসভাস্থলটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।