মোঃ মাহিন খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রচার-প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে রাজাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় রাজাপুর প্রেসক্লাবের সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা মহিলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খাদিজা বেগম মৌখিক বক্তব্যে অভিযোগ করেন, সোমবার সকালে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের পিংড়ি এলাকায় তার নেতৃত্বে একদল জামায়াত সমর্থিত নারী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় যান। এ সময় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের পক্ষে প্রয়াত সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসিম উদ্দিন আকনের বড় বোন মাজেদা বেগম প্রথমে তাদের প্রচারে বাধা সৃষ্টি করেন। পরে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানালে ঝালকাঠি জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল হক সোহেলের নেতৃত্বে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাসান, জেলা যুবদলের সদস্য রাসেল, মো. নাজমুল হক চমন, নাসিম, সাইফুলসহ কয়েকজন স্থানীয় নেতা সেখানে গিয়ে প্রচারে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
জামায়াতের নারী নেত্রীরা আরও অভিযোগ করেন, তারা ওই স্থান থেকে সরে পাশের এলাকায় গিয়ে প্রচার চালাতে চাইলে সেখানেও বাধা দেওয়া হয়। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বলেন, “সোহেল ভাইয়ের এলাকায় এসব প্রচার চলবে না।” খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর শুক্তাগড় ইউনিয়নের আমির আব্দুল আলিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাকেও অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে না গিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। তারা জানান, পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানালে মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত।
জামায়াতের নারী নেত্রীরা আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও তিন থেকে চার দিন আগে একই এলাকায় প্রচার চালাতে গিয়ে তারা বাধার মুখে পড়ে ফিরে আসেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. কবির হোসেন, উপজেলা মহিলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সেক্রেটারি মোসা. সাহিদা বেগম ও সহ-সেক্রেটারি মারিয়ম বেগম। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নারী নেত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ঝালকাঠি-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী ড. ফয়জুল হক বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পিংড়ি এলাকায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা বাধা প্রদান করে আসছে এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আজ তারা আমাদের বোনদের রাস্তায় অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শবাদী সংগঠন। আমাদের বোনদের দাওয়াতি কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অথচ বাংলাদেশের এমন একটি রাজনৈতিক দল যেখানে ৪৩ শতাংশ নারী সদস্য যুক্ত রয়েছে—সে দলটির নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। যারা নারীদের হেনস্তা করছে, স্কার্ফ টেনে ধরছে ও আক্রমণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার জানা মতে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের প্রার্থীর বয়স অল্প এবং তিনি রাজনীতির অনেক বিষয় এখনো বুঝেন না। প্রতিপক্ষকে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক মাদ্রাসায় পড়ছেন এবং তার কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তার ভেতরে জঙ্গি ভাব রয়েছে।