আবু বকর সুজন ,চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা দেশে আর কোন দুর্নীতিগ্রস্থ সরকার দেখতে চাই না। আমরা আধিপত্য মানবো না। ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। আমরা কোন দুর্নীতিগ্রস্থ সরকারও দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। এদেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়।
১২ই ফেব্রুয়ারীর পরেই ১৩ই ফেব্রুয়ারী এদেশের মানুষ একটি পরিবর্তিত সরকার দেখতে পাবে। তিনি শনিবার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা যুবকদের হাতে এ বাংলাদেশ তুলে দিতে চাই। ১১ দলীয় জোটে ৬২% প্রার্থী যুবক। তাই যুবকদের জন্যই এ বাংলাদেশ গড়তে চাই। এটা যুবকদের বাংলাদেশ, যুবকরা কোন বাঁধা মানে না।
তিনি আরো বলেন, আমরা যদি ১২ই ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় আসি তাহলে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ মন্ত্রী পরিষদ গঠন করবো। আর এ মন্ত্রী পরিষদে দেশের সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরাই স্থান পাবে। যারা পরাজিত হবেন তাদেরকেও আমরা এ মন্ত্রী পরিষদে যোগদান করে দেশে অবদান রাখার আহ্বান করবো। তবে এজন্য তাদেরকে তিনটি ওয়াদা আমাদেরকে দিতে হবে। প্রথমত হলো ব্যাংক লুট করতে পারবেনা, দ্বিতীয়ত হলো শেয়ার বাজারে কালো থাবা চলবে না, তৃতীয়ত হলো এদেশের জনগণের যানমালের হেফাজত করতে হবে। তবেই তারা আমাদের মন্ত্রী পরিষদে স্থান পাবে।
জামায়াতের আমির আরো বলেন, ২৪ পরবর্তী যারা এদেশে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছেন তারা ভালো হয়ে যান। আল্লাহ পাক যদি আমাদেরকে দেশ সেবা করার সুযোগ দেন তাহলে এদেশের চাঁদাবাজদের কোন অস্তিত্ব রাখবোনা। এর পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদের অস্তিত্ব রাখবোনা।
জামায়াতের এ আমির আরো বলেন, এদেশে আমরা শুধু মুসলমানরাই বসবাস করি না। এদেশে আরো তিনটি ধর্মের মানুষ বসবাস করে। সেই ধর্মাবলম্বী ভাইদের উদ্দেশ্যে বলছি আপনারা স্বাধীন ভাবে আপনাদের ধর্ম কর্ম চালিয়ে যান। আমরা আপনাদের পাশে রয়েছি। আপনারা আপনাদের অধিকার নিশ্চিত করুন। কেউ আপনাদেরকে বাঁধা দিতে পারিবে না।
চৌদ্দগ্রাম এইচ.জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভার সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এটিএম মাছুম ও আবদুল হালিম, শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী সিগবাতুল্লাহ সিগবা, ঢাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম সহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. তাহের ২০০১ সালের নির্বাচিত হয়ে চৌদ্দগ্রামের উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন।
ভারত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল : নাহিদ ইসলাম
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম বলেন, এই নির্বাচন কোন বিচ্ছিন্ন নির্বাচন নয়। এই নির্বাচন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতার নির্বাচন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের রক্তের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হওয়া অনেক আকাঙ্খার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অনেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে বলছে এটা একটা সাধারণ নির্বাচন। যারা মনে করছে গত ১৬ বছর এটা তাদের লড়াইয়ের ফসল, তারা ভুল ভাবছে, তারা গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যকে বিদায় করে একটি বিনির্মাণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষে কিন্তু আমরা দেখছি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ যারা বিভিন্ন সময় গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি এবং বাংলাদেশে নির্বাচনে বার বার হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনকে ঘিরেও তাদের লাগানো তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে আপনারা জানেন, ভারতের এক কূটনৈতিক বলেছেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় ভোট চুরি ছাড়া যেতে পারবেনা। তারা স্পষ্টভাবে একটি দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গত ১৬ বছর ধরে তারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
এনসিপির এ আহ্বায়ক আরো বলেন, আমাদের শরীফ ওসমান হাদী ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হয়েছেন। আমরা স্পষ্ট ভাবে বলে দিতে চাই বাংলাদেশে কে ক্ষমতায় আসবে তা নির্ধারন করবে একমাত্র বাংলাদেশের জনগণ। যদি কোন আধিপত্যবাদী শক্তি চেষ্টা করে এই সরকার এই নির্বাচনকে তারা হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশের জনগণ দাঁড়াবে।
এদেশের জনগণ দুই রাজ পরিবারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না : মামুনুল হক
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, এদেশের মানুষ আর দুই রাজ পরিবারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এদেশের পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের জন্য ইতিমধ্যে ১১ দলীয় জোটের প্রতি দেশের মানুষের মধ্যে একটা লক্ষ দেখতে পাচ্ছি। আর এ লক্ষকে একটা দল সহ্য করতে পারছে না। যখন আমাদের মা-বোনরা ১১ দলীয় জোটের পক্ষে নির্বাচনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তখনই একটি রাজনৈতিক দল আমাদের মা-বোনদের উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই হুশিয়ার হয়ে যাও। আর যদি আমার কোন মা-বোনদের উপর হামলা করা হয়। তাহলে আমরা বসে থাকবো না।
মামুনুল হক আরো বলেন, ১৯৭২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এদেশের জনগণকে বাংলাদেশের কায়েমী শাসকগোষ্ঠীগুলো শাসনের নামে শোষন করে করেছে। বাংলাদেশে তাদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছে। ১২ই ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে এদেশের জনগণ তাদের বিরুদ্ধে ব্যালটের বিপ্লব ঘটিয়ে জানান দিবে এদেশে আর কোন রাজ পরিবারকে মানুষ ক্ষমতায় দেখতে চায় না।