মাহবুব হাসান, নলছটি প্রতিনিধি:
বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জে নয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এই আদেশ দেন বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ শেখ ফারুক হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম।
এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছিলেন দুদকের বর্তমান কেন্দ্রীয় দপ্তরের উপ-পরিচালক ও বরিশালের সাবেক সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান। তিনি ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ওই নয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন পুতুল রানী মন্ডল, কল্যানী দেবনাথ, গোলাপী রানী, সাবনিন জাহান, সুরাইয়া সুলতানা, সুবর্ণা আক্তার, কাওসার হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান, ফাতেমাতুজ হোজরা, রোকসানা খানম, শহিদুল ইসলাম, রেশমা আক্তার, রহিমা খাতুন, আকতার হোসেন খোকন, নাছরিন, মনির হোসেন, রেহেনা পারভীন, আহসান হাবীব, সামসুন্নাহার, আক্তারুজ্জামান মিলন ও মনিরুজ্জামান।
বেঞ্চ সহকারীর মতে, মেহেন্দীগঞ্জের নয়টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছিল। অভিযুক্ত শিক্ষকরা ভুয়া রেকর্ডপত্রকে সঠিক হিসেবে ব্যবহার করে নিয়োগ দেখিয়ে ১ কোটি ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
দুদক কর্মকর্তা রাজ কুমার সাহা গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর চার্জশিট আদালতে জমা দেন। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে ২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
এই মামলার জটিলতায় স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশাসনও সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের তদারকি ও স্বচ্ছতা বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যায়।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করতে পারে। মামলার পরবর্তী শুনানি ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে অনুসরণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।