মোঃ রুহুল আমিন রাসেল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাসাইটারি এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে রাতে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় দলের অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
খবর পেয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে বিএনপি ও জামায়াত।
সোমবার সকালে জামায়াতের নারী সংগঠনের জেলা সেক্রেটারি তামান্না বেগম এবং বেলা ১২টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হাতীবান্ধা উপজেলা শাখার আমির রফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজুর নারী কর্মীরা টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভোট চাইতে গেলে বিএনপির লোকজন তাদের হিজাব খোলার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে বিএনপির আরও নেতাকর্মী এসে নারী-পুরুষদের ওপর হামলা চালায় এবং ঘরবাড়ি ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এতে তাদের ১০ জন নেতাকর্মী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
জামায়াত নেতারা আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির লোকজন ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট চাইতে দিচ্ছে না এবং সাধারণ ভোটারদের বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, যে দলের নেতাকর্মীদের কাছে মা-বোনদের পর্দা ও ইজ্জত নিরাপদ নয়, তারা ক্ষমতায় আসলে জাতি কতটা নিরাপদ থাকবে।
অন্যদিকে, বিকেল ৩টায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলছেন-একমাত্র দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলেই জান্নাতে যাওয়া যাবে, স্বামী-সন্তান কেউ জান্নাতে নিতে পারবে না। তিনি দাবি করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে জামায়াত-শিবির পরিকল্পিতভাবে হামলা-ভাঙচুর ও ভীতি সৃষ্টি করছে। হিজাব টেনে নেওয়ার অভিযোগটিকে তিনি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব’ বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, রোববার ভোট চাওয়া ও হিজাব বিতর্ককে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মো. আমানুল্যাহ বলেন, "গতকালের সংঘর্ষের পর বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।