মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার নাগরিকদের দীর্ঘদিনের গ্যাসের স্বল্পচাপ সমস্যা সমাধান এবং জরাজীর্ণ গ্যাস পাইপলাইনের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি নিরসনে আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের আওতায় পুরোনো ২ ইঞ্চি পাইপের পরিবর্তে ইঞ্চি ব্যাসের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নতুন পাইপলাইন স্থাপন করা হচ্ছে। এতে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং পৌর এলাকায় নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
একই সঙ্গে লিকেজজনিত দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী মাহবুবের নির্দেশনা ও সরাসরি তদারকিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায় ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে ওই এলাকায় ২ ইঞ্চি ব্যাসের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ পাইপলাইন প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
এরই প্রেক্ষিতে পৌরসভার পক্ষ থেকে রাস্তা খননের প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয় এবং তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন লিমিটেডের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। তিতাস গ্যাসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা রাস্তা কাটার ক্ষতিপূরণ ও ভ্যাটসহ মোট ৩২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫০ টাকা জমার নির্দেশ দেয়।
সূত্র আরো জানায়, নির্ধারিত অর্থ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন লিমিটেড গতবছরের ২৮ অক্টোবর ফি জমা দেয় এবং ১০ নভেম্বর তারিখে রাস্তা খননের চূড়ান্ত অনুমতির আবেদন জানায়। এরই ধারবাহিকতায় প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব গতবছরের ৩ডিসেম্বর এক মাসের জন্য রাস্তা খননের অনুমতি প্রদান করেন। অনুমতির শর্ত হিসেবে তিনি খননকৃত রাস্তা দ্রুত বালি দিয়ে ভরাট, ইটের সলিং করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেন এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কঠোর শর্তারোপ করেন। পরবর্তীতে কারিগরি কারণ ও পাইপলাইনের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে তিতাস গ্যাসের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৮ ডিসেম্বর থেকে খনন কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ০৩ ফেব্রুয়ারিপর্যন্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। যা বাস্তবায়ন হচ্ছে বর্তমানে
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব বলেন, “নাগরিকদের প্রতিটি মৌলিক সমস্যা সমাধান করা আমাদের অগ্রাধিকার। আধুনিক গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের ফলে পৌরবাসী দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাবেন। উন্নয়ন কাজ চলাকালীন সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত। দ্রুততম সময়ে রাস্তাটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে আমাদের টিম কাজ করছে।”
এদিকে পৌরসভার সূত্র জানায়, পাইপলাইন স্থাপন শেষে রাস্তা সংস্কারের ক্ষেত্রে বালি দিয়ে ভরাট, ইটের সলিং, যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা এবং প্রতিটি ধাপে পৌরসভার প্রকৌশল শাখার যৌথ তদারকি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি কাজের এলাকায় নিরাপত্তা ফিতা ও বাঁশের বেষ্টনী ব্যবহার করে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। গ্যাস লাইন মেরামত ও সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে মুন্সীগঞ্জ পৌরবাসীর গ্যাস সরবরাহ সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।