জাহিদুল ইসলাম, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ডিমলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কয়েকজন ছাত্রীকে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক অভিভাবক।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় চলাকালীন আফিফা ইসলাম ও আরাবি ইসলামসহ কয়েকজন ছাত্রী জুতোর নকশায় লাল স্টেপ থাকায় শিক্ষকদের অসন্তোষের মুখে পড়ে। অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের সবার সামনে দাঁড় করিয়ে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে তাদের কান ধরে উঠ-বস করানো হয় এবং সূর্যের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জাফর মোহাম্মদ মোত্তাসিম বিল্লাহ, সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেম এবং সহকারী শিক্ষিকা মঞ্জুশ্রী রানী রায়ের নাম উল্লেখ করে তাঁদের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পিতা আশিক-উল-ইসলাম লিমন বলেন, এ ধরনের অপমানজনক ও অমানবিক শাস্তির ফলে আমার সন্তানরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তারা এখন বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শিশু অধিকার আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনার পরিপন্থী।
ঘটনার পর এলাকায় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতি যেকোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকরা জানান, জুতার রং গড়মিল থাকায় শাসন করা হয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মানবিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে এলাকাবাসী।