চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে ১০৬ জন বন্দি আবেদন করেছেন। বর্তমানে কারাগারে গড়ে ছয় শতাধিক বন্দি থাকলেও আবেদনকারীর সংখ্যা মোট বন্দির এক ষষ্ঠাংশেরও কম।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারাবন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিধান আগে থেকেই থাকলেও ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো তারা ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং’ (আইসিপিভি) পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এ কারণে এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ভোটিং বিষয়ে বিশেষ প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। এর ফলেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারের ১০৬ জন বন্দি ভোটদানের জন্য আবেদন করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, কারাগারে গড়ে প্রায় সাড়ে ছয় শতাধিক বন্দি থাকে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে বন্দির সংখ্যা ছিল ৬৪২ জন। তাদের মধ্যে ১০৬ জন পোস্টাল ভোট প্রদানের জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৯ জন মুক্তি পেলেও তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমেই ভোট প্রদান করবেন।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী, জেলখানা বা আইনগত হেফাজতে থাকা ভোটাররা এবার আইসিপিভি পদ্ধতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বন্দি ভোটারদের তালিকা যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের কাজ করবে।
এ জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত একটি বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জেলখানা বা আইনগত হেফাজত কর্তৃপক্ষ দুজন করে প্রতিনিধি মনোনয়ন দেবেন। নিবন্ধন শেষে সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে এবং একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারিত পোর্টালে আপলোড করা হবে।
নিবন্ধিত ভোটাররা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ করবেন। পোস্টাল ব্যালটের খামে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য পৃথক ব্যালট পেপার, ভোট প্রদানের নির্দেশনা, ঘোষণাপত্র এবং ফেরত খাম থাকবে।
ভোটগ্রহণের জন্য কারাগারের ভেতরে গোপন ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হবে। পোস্টাল ব্যালট পেপারে প্রার্থীর নাম থাকবে না, কেবল প্রতীক ও প্রতীকের পাশে ফাঁকা ঘর থাকবে। ভোটাররা নির্ধারিত প্রতীকের পাশে টিক (√) অথবা ক্রস (×) চিহ্ন দিয়ে ভোট প্রদান করবেন।
ভোট দেওয়ার আগে ঘোষণাপত্রে ভোটারের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। স্বাক্ষর দিতে অক্ষম হলে অন্য একজন ভোটারের মাধ্যমে তা সত্যায়ন করা হবে।