আবু বকর সুজন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
ঢাকার রাজধানী উত্তরায় ১১ নাম্বার সেক্টরে আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৬ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে তিনজনের বাড়ী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া কাজী বাড়ীতে। মৃত্যুর সংবাদ শুনে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন চিওড়া কাজী বাড়ী। স্বজন হারানোর যন্ত্রনায় যেন তারা কথা বলাই ভুলে গেছেন।
শনিবার সকালে লাশবাহী এম্ব্যুলেন্স গ্রামে পৌছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
সকাল ১১টায় চিওড়া কাজী বাড়ীতে ৩য় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয় স্বামী, স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে। মাঝখানে স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭), আর এক পাশে স্বামী কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮) আরেক পাশে তাদের দুই বছরের সন্তান কাজী ফাইয়াজ রিশানকে দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল বেলা অগ্নিকাণ্ডে তাদের মৃত্যু হয় তারা হলেন-উপজেলা চিওড়া কাজী বাড়ির কাজী খোরশেদ আলমের ছেলে কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তাঁর স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাঁদের দুই বছরের একমাত্র সন্তান কাজী ফাইয়াজ রিশান।
নিহতের ফুপাতো ভাই কাজী নাহিদ জানান, ফজলে রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা জেলা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়ন চিওড়া ঐতিহ্যবাহী কাজী বাড়ী তাদের জন্মস্থান। কুমিল্লা শহরে ও তাদের বাড়ী রয়েছে। তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারক এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে কর্মরত। আর তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। তাদের দুই ছেলে ফাইয়াজ ও রাফসান।
তিনি আরও জানান, স্বামী স্ত্রী দুজনই কর্মজীবী হওয়ায় তাদের দুই ছেলেই উত্তরাতেই নানির বাসায় থাকতো। শুক্রবার অফিস বন্ধের দিন হওয়ায় বৃহশপতিবার রাতেই ছোট ছেলেকে নানির বাসা থেকে মায়ের বাসায় নিয়ে আসেন বাবা ফজলে রাব্বির। এরপর শুক্রবার সকালে ওই বাসায় আগুনের সংবাদ পান স্বজনরা। পরবর্তীতে একে একে হাসপাতালে এসে তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
আফরোজার বোন আফরিন জাহান জানান, আফরোজাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের বাকি দুজনের লাশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সবাই ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তাদের শরীর দগ্ধ হয়নি। তবে তার শরীরে কোনো পোড়া ক্ষত নেই। ধোয়ায় অসুস্থ হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফুফাতো ভাই কাজী শহীদ জানান গত দুই মাস প‚র্বে ফজলে রাব্বি স্ত্রী সন্তানদেরকে নিয়ে বাড়ী এসেছেন দুদিন থেকে কর্মজীবন ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যান। আজ স্বামী-স্ত্রী সন্তানের লাশের গাড়ি অ্যাম্বুলেন্স বাড়ীতে অবস্থান করছে। ভাবতে খুব খারাপ লাগছে এভাবে একসাথে তিন জনের মৃত্যু হবে আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।
এইদিকে ঢাকায় জানাযা শেষে নিহত ৩ জনের মরদেহ শুক্রবার রাতেই কুমিল্লা শহরের বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। রাত ১০টায় দারোগা বাড়ী জামে মসজিদে তাদের ২য় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকালে চিওড়াতে ৩য় জানাযা শেষে দাফন কাজ সম্পূর্ণ হয়।