মো: সিয়াম আবু রাফি, জবি প্রতিনিধি:
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা ‘সোচ্চার-Torture WatchDog Bangladesh’-এর ক্যাম্পাস শাখা ‘সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক’ (এসএসএন)-এর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার ২০২৬-২৭ সেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে আম্মার বিন আসাদকে সভাপতি ও সিফাত হাসান সাকিবকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্রের ফিল্যান্ডার স্মিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশিত হয়।
জানা যায়, সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক স্থানীয় সম্প্রদায় ও সচেতন মহলের সাথে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করে। যারাই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক ক্লাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।
সোচ্চারের জবি শাখার নবগঠিত এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আম্মার বিন আসাদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত হাসান সাকিবকে মনোনীত করা হয়েছে। যেখানে সহ-সভাপতি হিসেবে ফারহাত লামিয়া ও আশরাফুল হক, সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ মাহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মাহমুদুল হাসান এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আহনাফ আতিফ দায়িত্ব পেয়েছেন।
এছাড়াও দপ্তর সম্পাদক হিসেবে রজব আল ফাহিম ও সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মাহমুদুল হাসান মামুন; অর্থ সম্পাদক হিসেবে তাহমিদ আব্দুল্লাহ রা’দ ও সহ-অর্থ সম্পাদক হিসেবে আশিক আহমেদ রাতুল; মিডিয়া এন্ড পাবলিকেশন সম্পাদক হিসেবে ফাহিম হাসনাত ও সহ-মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে মোঃ রোকুনুজ্জামান গোলাম রাব্বীকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
ট্রমা ম্যানেজমেন্ট সম্পাদক হিসেবে তাসমিয়া তাহমিদ আপন এবং এই দপ্তরে সহ-সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ মাহি, সানজিদা নূর, জুনায়েদ হাসান আরমান ও উম্মে নুসাইবা জামান দায়িত্ব পালন করবেন। সোশ্যাল মিডিয়া সম্পাদক পদে নাগিব হাসান এবং সহ-সোশ্যাল মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে মেহরাব হোসেন অপি ও মুসতাভি নাওযার খান নির্বাচিত হয়েছেন। লিয়াজোঁ সম্পাদক হিসেবে ফাহিম মুনতাসীর এবং সহ-লিয়াজোঁ সম্পাদক হিসেবে জয়নব হাছান দায়িত্ব পেয়েছেন।
কমিটিতে ডিপার্টমেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে রয়েছেন রিয়াতুল ইসলাম রাব্বি, মো: ইয়াহইয়া হাসান, মোহাম্মদ মুস্তাকিম, মোহন খন্দকার ও মো: আজমুল হক। এছাড়াও এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে লামিয়া অর্নি, সিফাত হোসেন, মৃত্তিকা আহমেদ, তুষান শরীফ, জান্নাতুল ফেরদৌস ও আযহারুল ইসলাম মনোনীত হয়েছেন।
নবগঠিত এই কমিটি আগামী এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং সব ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালনের লক্ষ্য নিয়ে এই কমিটি কাজ করবে।
কমিটির অনুমোদন দিয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ড. মাহফুজুল হাসান বলেন, "বাংলাদেশে নিরাপদ ও ভয়-ভীতিহীন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় জবিতে এই ক্লাবের যাত্রা শুরু হলো। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রশিক্ষিত, সচেতন ও দায়িত্বশীল তরুণ মানবাধিকার কর্মী তৈরি করা, যারা ক্যাম্পাসে অন্যায়, নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।"
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সিফাত হাসান সাকিব বলেন, "সোচ্চার একটি দায়িত্বশীল ও জনসচেতনতামূলক সংগঠন। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। ক্যাম্পাসে রযাগিং, রাজনৈতিক হয়রানি বা যেকোনো হেনস্তার শিকার শিক্ষার্থীদের পাশে মানবিকতা ও সাহস নিয়ে দাঁড়াবে সোচ্চার। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার।"
নবনির্বাচিত সভাপতি আম্মার বিন আসাদ বলেন, "সোচ্চার বরাবরই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব ধরনের অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সোচ্চারের নতুন কমিটির এই যাত্রা মানবাধিকারভিত্তিক লড়াইকে আরও সংগঠিত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
উল্লেখ্য, ‘সোচ্চার’ মূলত যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত একটি মানবাধিকার গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা, যা বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষা ও বিকাশে কাজ করে। সংস্থাটি জাতি, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সকলের ন্যায়বিচার, সমতা এবং স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক নিপীড়ন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা রোধসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সংস্থাটি গবেষণা, মিডিয়া প্রকাশনা ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখছে।