রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সুরমা নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হতে চলেছে জনপদ। উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আজমপুর, আশ্রাবনগর ও ইদনপুর গ্রামে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিলেও এখনো তা সরকারি নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের বাইরে থাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কয়েকশ পরিবার। পরিচালক উদ্যোক্তা তাসনিম আলম মিজান ।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ভাঙনকবলিত এলাকার সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুরমার তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে এই তিন গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কবরস্থান, খেলার মাঠসহ শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঝুঁকিতে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জামে মসজিদ এবং আরও অন্তত অর্ধশতাধিক বাড়িঘর। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু রক্ষায় অনেকে আগাম গাছপালা কেটে সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার অনেকের সাজানো বাগান চোখের সামনেই আছড়ে পড়ছে নদীগর্ভে।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি কোটি টাকার নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আজমপুর, ইদনপুর ও আশ্রাবনগর গ্রামগুলো রহস্যজনকভাবে প্রকল্পের বাইরে রয়ে গেছে। এই ‘উন্নয়ন বৈষম্য’ অবিলম্বে দূর করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ে এই তিন গ্রামকে প্রকল্পের আওতায় না আনা হলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহী এই জনপদ। সৃষ্টি হবে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাবা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম
তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। এই তিন গ্রামের মানুষের কান্না থামাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে।’
মান্নারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইজ্জত আলী তালুকদার বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অবিলম্বে স্থায়ী জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলে ভাঙন রোধ করা না গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।’
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন নজির উদ্দিন মাস্টার, আব্দুল হান্নান, সাবেক ইউপি সদস্য আজাদ মিয়া, প্রবীণ সাংবাদিক এম এ করিম লিলু, সিরাজ মিয়া, এখলাছ মিয়া, এখলাছুর রহমান তালুকদার, আমীর আলী ও সাইদুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
2025 © জনপদ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৭১২-০৬৮৯৫৩