পৌষের শুরুতে শীতের তীব্রতা, ফুটপাতে খরম কাপড় কিনতে ভিড়

আবু বকর সুজন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

পৌষ মাসের শুরুতেই কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। পাশাপাশি বাড়ছে ঘনকুয়াশা। দেশজুড়ে কনকনে ঠান্ডায় শীত জেঁকে বসেছে ।সে সঙ্গে বেড়েছে গরম কাপড়ের চাহিদা। শীত বস্ত্র কেনার জন্য নিম্ন আয়ের লোকেরা ফুটপাতে ভিড় করছে।

গত দুইদিন থেকে সূর্যের আলো দেখা না মিলায় দিনে রাতে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নবিত্ত লোকেরাই চরম দুর্ভোগে পড়ছে। শীতের দাপট থেকে বাঁচতে দিনভর গরম কাপড় কিনতে নারী-পুরুষরা ফুটপাতে ভিড় করছে। ফলে এসব সাধারন মানুষের একমাত্র ভরসা মহাসড়কের পাশে ফুটপাতের দোকান। বিভিন্ন সাইজের সোয়েটার, জ্যাকেট, কার্ডিগান, কানটুপি, মাফলার, শাল, ট্রাউজার, ফুলহাতা গেঞ্জি ও হুডিসহ বিভিন্ন শীতের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে এইসব ভ্রাম্যমাণ দোকানে। এছাড়া হাত মোজা,বাচ্চাদের ছোটখাট শীতের পোশাক মিলছে দেরশত থেকে তিনশ টাকার ভেতরেই কিনছেন পছন্দের শীতবস্ত্র। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফুটপাতের দোকানগুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও দোকানগুলোতে ভিড় করছে। কারণ এইসব দোকানে স্বল্প মূল্যে ভালো মানের শীত বস্ত্র পাওয়া যায়।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায় চৌদ্দগ্রামের এম এম শপিং কমপ্লেক্স, সওদাগর মার্কেট, চৌদ্দগ্রাম প্লাজা, ভাই ভাই মার্কেট, গনি মার্কেটে গরম কাপড় বেচাকিনা হলেও মহাসড়কের পাশে বাজারের ওয়াবদা রোডের মাথায় ফুটপাতের দোকানেই গুলোতে ক্রেতাদের উপচেপরা ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দোকানগুলোতে কাপড় টাঙ্গিয়ে দেওয়ায় ক্রেতাতের মধ্যে দর কষাকষিতে ঝামেলা তেমন নেই। তাই খুব সহজে প্রত্যেকে নিজের পছন্দমত কাপড় কিনতে পারছেন। বিশেষ করে মৌসুম ভিত্তিক দোকানগুলোতে শীতের কাপড় কেনাবেচা চলছে পুরোদম।

ফুটপাতের দোকানগুলোতে একটি সোয়েটার দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, বাচ্চাদের কাপড় ১৫০থেকে ২০০ টাকামধ্যে পাওয়া যাচ্ছে । এই শীত থেকে রক্ষা পেতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বেছে নিতে চেষ্টা করছেন নিম্ন দরিদ্র পরিবারের মানুষরা।

চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা বাজারে ওয়াবদা রোডে ফুটপাতের দোকানদার জুয়েল বলেন – গত কয়েক বছর যাবত এখানে আমি শীতের কাপড় বিক্রি করে আসছি। শীত না পরলে আমাদের বিক্রি কম হয়। এবার শীতের মৌসুমে ভালোই বেচাকেনা শুরু হয়েছে। গত দুইদিন প্রচন্ড শীতে আমাদের বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে। পুঁজি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারব আশা করছি।

পাশে আরেক দোকানদার মহরম দাস বলেন- ছোট বয়স থেকে শুরু করে বড়দের পর্যন্ত সকলের শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। গার্মেন্টস আইটেমের চেয়েও পুরাতন শীতবস্ত্র বিক্রি করে বেশি লাভ পাওয়া যায়।

ফুটপাতে পোশাক কিনতে আসা রিকশা শ্রমিক রেজাউল (৫৬)বলেন – শীত এলেই গরম কাপড় কিনতে হয়। সারাদিন রিক্সা চালিয়ে বাতাসের ঠান্ডা অনুভব করতে হয় তাই ৩০০ টাকা দিয়ে একটি জ্যাকেট কিনলাম। আজকের নিজের জন্য কিনলাম আগামীদিন ইনকাম ভালো হলে ছেলে মেয়ের জন্য গরম কাপড় কিনতে হবে।

বাচ্চাদের গরম কাপড় কিনতে বাজারে মায়ুদা বেগম (৪৫)বলেন – গতদুইদিন ঠান্ডা বেশি পড়ায় নাতির জন্য গরম কাপড় কিনতে বাজারে আসছি। দেখি যদি ভালো কাপড় পাওয়া যায় দামে মিললে কিনবো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top