মেহেরাব হোসেন, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুরের শিবচরে আবারো প্রমাণ মিললো—বাংলাদেশের ফুটবলে সৃষ্টি হওয়া নতুন জাগরণ এখন শুধু জাতীয় দলেই সীমাবদ্ধ নেই, পৌঁছে গেছে গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি মাঠে। জামাল ভূইয়া, হামজা চৌধুরী, জিকোদের হাত ধরে যে ফুটবলের জাগরণ শুরু হয়েছে, তার প্রভাব আজ অনুভূত হচ্ছে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের মাঠেও। যে ফুটবল একসময় দর্শক সংকটে ভুগত, সেই ফুটবলের ম্যাচ দেখতে এখন মানুষের ঢল নামে—মাঠে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল। মাঠে মুখোমুখি হয় চরমানাইর স্পোর্টিং ক্লাব এবং শিবচর উপজেলা ক্লাব। খেলাটি শুরু থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় দুই দলের আক্রমণ–পাল্টা আক্রমণে। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর খেলায় ২–১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় শিবচর উপজেলা ক্লাব।
এই পরিবর্তনের প্রাণবন্ত চিত্র দেখা গেল শিবচরের পাচ্চর ইউনিয়নে আয়োজিত ‘লাখ টাকার ফুটবল টুর্নামেন্টে’। পাচ্চর জাগরণী ক্রীড়া চক্রের উদ্যোগে ১৬টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় নকআউট পদ্ধতির এই প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দক্ষ ফুটবলার এবং বিদেশী ফুটবলাররাও অংশ নেন টুর্নামেন্টে। খেলোয়াড়দের থাকার জন্য ছিল আলাদা আবাসনের বিশেষ ব্যবস্থা। চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ঘোষিত হয় এক লক্ষ টাকা নগদ পুরস্কারসহ আকর্ষণীয় উপহার।
ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো পাচ্চর ইউনিয়নে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজনেরা বাড়িতে অতিথি হয়ে এসেছেন শুধু এই খেলা দেখার জন্য। মাঠের গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। জায়গা না পেয়ে অনেক দর্শক বাড়ির ছাদে, টিনের ঘরেও উঠে, এমনকি গাছেও বসে খেলা উপভোগ করেন।
দর্শকদের অনেকে বলেন, “এমন আয়োজন এলাকায় আনন্দ ফিরিয়ে এনেছে। শুধু খেলা নয়, পুরো এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। এ রকম আয়োজন প্রতি বছর হওয়া উচিত।”
টুর্নামেন্ট সফলভাবে শেষ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখায় আয়োজক সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীকে ধন্যবাদ জানান ক্রীড়াপ্রেমীরা। তিনি মাদারীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক জাতীয় ফুটবলার এবং মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি মাঠে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড় ও দর্শকদের উৎসাহ দেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল রানা, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হেমায়েত হোসেন খান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তুরাগ খানসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
পাচ্চরের এই আয়োজন আবারও দেখিয়ে দিল—ফুটবল এখন আর শুধু একটি খেলা নয়, এটি সামাজিক মিলনমেলা, গ্রামীণ সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ এবং নতুন প্রজন্মকে একত্রিত করার শক্তিশালী মাধ্যম। জাতীয় ফুটবলের আলো আজ মাঠে মাঠে ছড়িয়ে পড়েছে; ঠিক তেমনই গ্রাম বাংলার এই মাঠগুলোই আবার জাতীয় ফুটবলে প্রাণসঞ্চার করছে।