Author: বাসস

  • গাজামুখী ত্রাণবাহী ফ্লোটিলার ৩টি নৌযান আটক ইসরাইলের

    গাজামুখী ত্রাণবাহী ফ্লোটিলার ৩টি নৌযান আটক ইসরাইলের

    গাজামুখী নতুন একটি ত্রাণবাহী নৌবহরের আয়োজকরা জানিয়েছেন, বুধবার অন্তত তিনটি নৌযান আটক করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

    কায়রো থেকে এএফপি এই খবর জানায়।

    গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে জানায়, ‘গাজা সানবার্ডস, আলা আল-নাজ্জার এবং আনাস আল-শরীফ — এই তিনটি নৌযানে ইসরাইলি সেনারা বেআইনিভাবে হামলা ও আটক করেছে। নৌযানগুলো সকালে গাজা উপকূল থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে ছিল।’

    তারা আরও জানায়, ‘কনসায়েন্স’ নামের আরেকটি জাহাজ, যাতে ৯০ জনের বেশি সাংবাদিক, চিকিৎসক ও অধিকারকর্মী রয়েছেন, সেটিও “আক্রমণের মুখে” রয়েছে।

    এদিকে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, গাজামুখী নৌযানগুলোকে আটক করা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানায়, ‘আইনগত নৌ অবরোধ লঙ্ঘন করে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশের আরেকটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নৌযান ও যাত্রীদের ইসরাইলের বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

    মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘সব যাত্রী নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। তাদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো হবে।’

    এদিকে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন জানিয়েছে, গাজার দুর্ভিক্ষপীড়িত হাসপাতালগুলোতে পাঠানোর জন্য এসব নৌযানে ১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের ওষুধ, শ্বাসযন্ত্রের সরঞ্জাম ও পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী ছিল।

    গত কয়েক মাসে ইসরাইল একাধিক আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী নৌবহরকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, গাজায় ইতোমধ্যে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে।

    গত সপ্তাহেও ইসরাইলি নৌবাহিনী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আরও একটি নৌবহর আটকায়। এতে ছিল প্রায় ৪৫টি নৌযান, যেগুলোতে ছিলেন রাজনীতিক ও কর্মীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন সুইডিশ জলবায়ু অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ।

    এই ঘটনার প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।

    সূত্রঃ বাসস

  • ইসরাইলি অবরোধ উপেক্ষা করে গাজা অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে ফ্লোটিলা

    ইসরাইলি অবরোধ উপেক্ষা করে গাজা অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে ফ্লোটিলা

    মানবিক ত্রাণ ও কর্মীদের বহনকারী আন্তর্জাতিক বেসামরিক নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা ইসরাইলি নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে।

    আক্রমণাত্মক বাধাদানের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আয়োজকরা দাবি করেছেন, অনেক জাহাজ গাজায় পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা এই মিশনকে দীর্ঘস্থায়ী সমুদ্র অবরোধ ভাঙার একটি প্রতীকী প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

    নৌবহর সূত্রে জানা যায়, ১ অক্টোবর ক্যামেরা বন্ধ এবং জিপিএস সিগন্যাল বিঘ্নিত হওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি জাহাজের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জাহাজগুলো বাধাগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে একটি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ইসরাইলি বাহিনী বোর্ডিং অভিযানও চালিয়েছে।

    বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করে নৌযান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ‘ডন’-এর খবরে বলা হয়েছে, নৌবহর ঘোষণা করেছে, তাদেরকে ‘বেআইনীভাবে আটক’ করা হয়েছে এবং কমপক্ষে তিনটি জাহাজে আক্রমণ করা হয়েছে।

    ফ্লোটিলা আরও জানায়, ইতোমধ্যে তারা ২০টিরও বেশি অজ্ঞাতনামা জাহাজকে কাছাকাছি আসতে দেখেছে, যা নৌ অবরোধ শুরুর ইঙ্গিত বহন করে।

    এপি জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী গাজা থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌবহরের ১৯টি জাহাজ আটকে দিয়েছে। কয়েকজন কর্মী বর্ণনা করেছেন, এই বাধা প্রক্রিয়ায় নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা, বাজেয়াপ্তের হুমকি এবং ওয়াটার ক্যাননের ব্যবহার ছিল। বাধা সত্ত্বেও বহু নৌযান সামনে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।

    রয়টার্স জানিয়েছে, ফ্লোটিলা গাজার উপকূল থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইলের কাছাকাছি পৌঁছালে ভোর হওয়ার আগেই অজ্ঞাত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন জাহাজগুলো নৌবহরের কাছে আসে। এরপর তারা আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে এবং নৌবহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফ্লোটিলা ড্রোন হামলা (স্টান গ্রেনেড ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে) এবং সংকেত দমনের অভিযোগ করেছে। তবে ইসরাইল প্রকাশ্যে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেনি।

    রয়টার্সের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়োজকরা জানায়, ত্রাণবহনকারী ১৩টি নৌকা আটকে দেওয়া হয়েছে। তবে আরও ৩০টি জাহাজ এখনো গাজার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আটককৃতদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গও ছিলেন।

    বিক্ষোভকারীরা এই বাধাগুলোকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছেন। ঘটনাটি বৈশ্বিক কূটনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

    দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নৌপথে হয়রানির শিকার হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন ফ্লোটিলার সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, ইসরাইলি নৌযানগুলো ত্রাণবাহী জাহাজগুলোকে ঘিরে ধরে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল এবং প্রায় ১৪০ মাইল সমুদ্র উপকূলে নৌবহরটিকে নিয়ে গিয়েছিল।

    পত্রিকাটি জানিয়েছে, ইতালি এবং গ্রীস ইসরাইলকে নিরাপদ যাত্রাপথের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে আয়োজকরা গির্জা বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিকল্প সরবরাহের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জোর দিয়ে বলছেন, সরাসরি সমুদ্রপথে সাহায্য পৌঁছানোই এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।

    অন্যান্য সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যাত্রার শুরুতে ফ্লোটিলার দুর্বলতাগুলোও নিশ্চিত হয়েছে। এপি জানিয়েছে, গ্রিসের দক্ষিণে ফ্লোটিলার জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল, ফলে বিস্ফোরণ এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ আক্রমণ মিশনটিকে নতুন ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে।

    এর আগেও তিউনিসিয়ার জলসীমায় সিদি বো সাইদে নোঙর করা পর্তুগিজ পতাকাবাহী নৌবহরের ড্রোন হামলার অভিযোগের খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স। ওই জাহাজটিতে আগুন লাগে, তবে সবাই অক্ষত ছিলেন। দেশটি ড্রোন হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছে।

    ফ্লোটিলার সমন্বয়কারী সংস্থা সুমুদ নুসান্তারা কমান্ড সেন্টার (এসএনসিসি) জানিয়েছে, দুটি প্রধান জাহাজ আলমা এবং সিরিয়াসকে একটি সামরিক জাহাজ দ্বারা ঘিরে ফেলা হয়। এতে তাদের সিসিটিভি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়। এসএনসিসি এই ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে ভয় দেখানোর প্রচেষ্টা হিসাবে বর্ণনা করেছে।

    মালয়েশিয়ার দ্য স্টার জানিয়েছে, একটি ইসরাইলি যুদ্ধজাহাজ আলমার মাত্র পাঁচ ফুট দূরত্বে ছিল এবং সিস্টেমে বাধা সৃষ্টি করেছিল। তবে পরে সেটি চলে যায়।

    এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্ট ঘোষণা করেছে, গাজার যেসব এলাকায় এখনও যুদ্ধ চলছে সেখানে জাহাজ ঢুকতে দেবে না এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে না। তারা বিকল্প পথ হিসেবে গাজার সাহায্য পৌঁছে দিতে অ্যাশকেলন মেরিনায় জাহাজ থামানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

    এ ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ১৫টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে ফ্লোটিলার সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বেলজিয়াম ড্রোন হামলার তদন্তের দাবি তুলেছে, আর মালয়েশিয়া নিরাপদ সমুদ্রপথ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।

    আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী ১৩টি জাহাজ থামিয়েছে এবং ২শ’র বেশি মানুষকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গও রয়েছেন।

    কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী মিকেনো নামে একটি জাহাজ বর্তমানে গাজার জলসীমায় রয়েছে। তবে ইসরাইলি বাহিনী সেটিকে আটক করেছে কি না তা এখনো জানা যায়নি।

    ইসরাইলি কমান্ডোরা ফ্লোটিলা নৌযানগুলোতে বাধা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে বহরে সক্রিয় জাহাজের সংখ্যা ২৪টি, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি গাজার জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

    এই পটভূমিতে বাংলাদেশের ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমের অংশগ্রহণ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য ফ্লোটিলার অভিযানের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে। আলম জানিয়েছেন, তিনি ‘বাংলাদেশের সকল মানুষের ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে’ অংশ নিচ্ছেন এবং গাজার পরিস্থিতি গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

    আইনগত দিক থেকে, ফ্লোটিলা ও ইসরায়েলের সংঘর্ষ নিয়ে কিছু জটিল প্রশ্ন উঠেছে। যেমন, আন্তর্জাতিক জলে বেসামরিক জাহাজ আটক করা কি ঠিক, অবরোধ কতটা বৈধ ও সঠিকভাবে হয়েছে, এবং নিরপেক্ষ জাহাজের অধিকার কী হবে।

    যদিও ইসরাইল বলছে, নিরাপত্তার জন্য এই অবরোধ প্রয়োজন। তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি সাধারণ মানুষের ওপর দমন ও মানবিক নীতির লঙ্ঘন।

    ফ্লোটিলা এখন গাজার ১২০ নটিক্যাল মাইলের কম দূরত্বে অবস্থান করছে। এলাকাটিকে আয়োজকরা ‘উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ অবস্থায় বহরের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাহাজগুলো কি জোরপূর্বক আটক হবে, গ্রেফতার করা হবে, নাকি আংশিকভাবে স্থলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে? তবে আয়োজকরা বলছেন, সব ঘটনার তথ্য লাইভ রেকর্ড করা হচ্ছে যাতে যে কোনো আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ সামনে আনা যায়।

    ত্রাণবাহী নৌবহরটি গাজা উপকূলে পৌঁছাক কি না, তা এখন আর মূখ্য বিষয় নয়। ইতিমধ্যেই এই অভিযান অবরোধকে চ্যালেঞ্জ করে বিশ্বজুড়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং এক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সমুদ্র সংঘর্ষের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

    সূত্রঃ বাসস

  • নিউইয়র্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা

    নিউইয়র্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নয় দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষ করে আজ সকালে দেশে ফিরেছেন।

    এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে সকাল ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বাসস’কে এ তথ্য জানান।

    এরআগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১১টা ১০ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর সফরসঙ্গীরা যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা অভিমুখে রওনা হন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক এমদাদ আরিফুল ইসলাম বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানান।

    সফরকালে ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা। ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি বিষয়ক’ উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধনী সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

    ২৯ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ইউনূস জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপো গ্রান্ডি তাঁর সঙ্গে হোটেলে সাক্ষাৎ করেন। একই দিন জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রপুঞ্জ বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমাও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    নিউইয়র্ক সফরে অধ্যাপক ইউনূস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক সংবর্ধনায় যোগ দেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

    এ ছাড়া তিনি নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, ভুটান ও কসোভোসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

    এরআগে প্রধান উপদেষ্টা গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

    সূত্রঃ বাসস

  • রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের ২৭ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা ঘোষণা

    রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের ২৭ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা ঘোষণা

    বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন করে ২৭ মিলিয়ন পাউন্ডের মানবিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য। এ প্যাকেজের আওতায় পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে সহায়তা প্রদান করা হবে।

    ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে এই সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়।

    এই সহায়তা প্যাকেজের আওতায় কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য, বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা সরবরাহ করা হবে।

    এছাড়া ১ লাখ ৭৫ হাজার নারী ও কিশোরীদেরকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং যৌন, শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদেরও সহায়তা করা হবে।

    ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, এ অর্থায়ন সরাসরি মাঠপর্যায়ে জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করবে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাজ্যের এই নতুন সহায়তায় খাদ্য, আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও জীবনরক্ষাকারী অন্যান্য সেবা দেওয়া হবে এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করা হবে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুতরা যাতে তাদের প্রাপ্য সমর্থন, সুরক্ষা, মর্যাদা এবং সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।

    ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা সংকটে ৪৪৭ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি সহায়তা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ত্রাণ প্রচেষ্টায় অন্যতম নেতৃস্থানীয় দীর্ঘমেয়াদি অবদান।

    সর্বশেষ এই প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের পাশাপাশি বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লন্ডনের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।

    এ অর্থায়ন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), ইউএনএইচসিআর, ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এনজিওসহ বিশ্বস্ত বহুপাক্ষিক ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

    সহায়তার মূল ক্ষেত্রগুলো হলো ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা, খাদ্য সহায়তা, স্যানিটেশন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা।

    যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো নিরসন এবং রাখাইন রাজ্যে এখনো ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে থাকা মানুষদের জন্য অবাধ মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে টেকসই আন্তর্জাতিক সমন্বয় জরুরি।

    যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বের গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং উন্নয়ন, বাণিজ্য, জলবায়ু সহযোগিতা ও কমনওয়েলথের মাধ্যমে গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছে।

    সূত্রঃ বাসস

  • ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

    ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নয় দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

    নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল) প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইট জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে আসে।

    সফরকালে গত ২৬ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন।

    এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। একই দিনে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এবং জাতিসংঘের অনুন্নত, স্থলবেষ্টিত ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রসমূহের বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা ইউনূসের সঙ্গে আলাদা সাক্ষাত করেন।

    নিউইয়র্ক অবস্থানকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত এক সংবর্ধনায় যোগ দেন অধ্যাপক ইউনূস। সেখানে তিনি ট্রাম্পকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    এছাড়া নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, ভুটান ও কসোভোসহ কয়েকটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    সূত্রঃ বাসস

  • ফিলিপাইনে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৩১, উদ্ধারকাজ চলছে

    ফিলিপাইনে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৩১, উদ্ধারকাজ চলছে

    ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টা ৫৯ মিনিটে (১৩৫৯ জিএমটি) একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯। ভূমিকম্পে দেশটির সেবু দ্বীপের অনেক ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্প অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৪৭ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

    দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজ চলছে। এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে সেবু দ্বীপের উত্তর প্রান্তে বোগো শহরের কাছে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। এই শহরে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ বসবাস করে।

    সেবুর প্রাদেশিক গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো জানান, বোগো শহরের প্রাদেশিক হাসপাতালে ২৫ জনের মৃত্যুর খবর রেকর্ড করা হয়েছে।

    গভর্নর বারিকুয়াত্রো তার অফিসিয়াল ফেসবুকে জানান, ‘গুরুতর আহত রোগীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় কিছু রোগীকে হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

    প্রদেশের অন্যত্র আরও ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফিলিপাইনের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় দ্বীপপুঞ্জে ১৪৭ জন আহত হয়েছে এবং ২২টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বাসিন্দাদের দ্বারা ধারণকৃত এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এক ফুটেজে দেখা গেছে, সেবুর কাছে বান্টায়ান দ্বীপে অবস্থিত একটি পুরোনো ক্যাথলিক গির্জার ঘন্টা টাওয়ার ভূমিকম্পের সময় কেঁপে উঠছে এবং পরে ভেঙে পড়ছে।

    ২৫ বছর বয়সী ওই এলাকার বাসিন্দা মারথম পাসিলান এএফপিকে বলেন, ‘আমি গির্জার দিক থেকে একটি বিকট শব্দ শুনতে পেলাম, এরপর দেখি পাথর পড়ছে। ভাগ্যক্রমে কেউ আহত হয়নি।’ তিনি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত গির্জার কাছেই ছিলেন।

    সূত্রঃ বাসস

  • সরকারি ক্রয় বিধি, ২০২৫ কার্যকর

    সরকারি ক্রয় বিধি, ২০২৫ কার্যকর

    সরকারি ক্রয়ে সুশাসন জোরদারকরণ এবং স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন প্রণীত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর), ২০২৫, গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।

    ২০২৫ সালের ১৬ নম্বর অধ্যাদেশের মাধ্যমে ২০০৬ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্টে (পিপিএ), ২০০৬-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধিত পিপিএ, ২০০৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য নতুন পিপিআর, ২০২৫ প্রণয়ন ও কার্যকর করা হয়েছে। এখন থেকে দেশে সরকারি ক্রয় পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশোধিত পিপিএ, ২০০৬ এবং নতুনভাবে প্রণীত পিপিআর, ২০২৫ উভয়ই যুগপৎভাবে কার্যকর হবে।

    পিপিআর, ২০২৫-এ মোট ১৫৪টি বিধি ও ২১টি তফশিল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইন ও বিধিতে আনা প্রধান পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে: অভ্যন্তরীণ কার্য ক্রয়ে বিদ্যমান ১০ শতাংশ (প্লাস-মাইনাস) মূল্যসীমা বাতিল, সব ধরনের সরকারি ক্রয়ে ই-জিপি বাধ্যতামূলক, চুক্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রকৃত উপকারভোগী প্রকাশ বাধ্যতামূলক, টেকসই সরকারি ক্রয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবর্তন, প্রতিটি প্রকিউরমেন্টে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা, ভৌত সেবাকে স্বতন্ত্র প্রকিউরমেন্ট ক্যাটাগরি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট ও নেগোশিয়েশনস এর ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, একটি ডিবারমেন্ট বোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং সম্পদ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত সুস্পষ্ট বিধান।

    পিপিআর, ২০২৫ প্রণয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের ৪ মে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ-এর গেজেট প্রকাশের পরপরই। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) তখনই নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় যা ২০০৮ সালের পিপিআর প্রতিস্থাপন করেছে।

    অন্তর্ভুক্তি ও কারিগরি উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে বিপিপিএ’র পরিচালনা পর্ষদ একটি টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ (টিডব্লিউজি) গঠন করে। যেখানে মন্ত্রণালয়সহ বৃহৎ ক্রয়কারী সংস্থার প্রতিনিধি, বিপিপিএ কর্মকর্তাবৃন্দ ও জাতীয় প্রকিউরমেন্ট প্রশিক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। টিডব্লিউজি ৯টিরও অধিক সভায় বসে সংশোধনী বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। পাশাপাশি, বিপিপিএ ১২টি বিস্তৃত পরামর্শ সভার আয়োজন করে। যেখানে ক্রয়কারী সংস্থা, দরদাতা, সাংবাদিক, উচ্চ পদস্থ নীতি-নির্ধারণী কর্মকর্তা, নারী উদ্যোক্তা ও উন্নয়ন সহযোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও ক্রয়কারী ও দরদাতাদের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

    অধিকাংশ পরামর্শ সভায় অংশগ্রহণকারীরা সর্বসম্মতিক্রমে মত দেন যে, ২০০৮ সালের পিপিআর ব্যাপক সংশোধন না করে সম্পূর্ণ নতুন বিধিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন।

    অংশীজনদের এই পরামর্শ অনুসরণ করে বিপিপিএ পিপিআর, ২০২৫-এর চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করে অনুমোদনের জন্য অর্থ বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের নিকট উপস্থাপন করে।

    এ প্রসঙ্গে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এটি সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

    বিপিপিএ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সচিব এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ‘নতুন বিধিমালা দেশের সরকারি ক্রয় সংস্কারের ইতিহাসে এক মাইলফলক।’

    সূত্রঃ বাসস

  • ড. ইউনূসের সঙ্গে ইউএনএইচসিআর প্রধানের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা

    ড. ইউনূসের সঙ্গে ইউএনএইচসিআর প্রধানের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা

    জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্রান্ডি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

    রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে সোমবার সংস্থার সদর দপ্তরে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    উভয় নেতাই সংকটের মূল বিষয়গুলো নিয়ে গভীর আলোচনা করেন। এর মধ্যে ছিল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ক্রমশ অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশের কক্সবাজারে এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গার ওপর প্রভাব ফেলে এমন আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, গত ১৮ মাসে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যা ইতোমধ্যেই ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

    তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে রোহিঙ্গা বিষয়ে মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, কেবল রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সম্মেলন এবারই প্রথমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এ সম্মেলন বিশেষ করে বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গার জন্য জরুরি তহবিল সংগ্রহে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাতে সহায়ক হবে।

    গ্রান্ডি গত মাসে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক সম্মেলনের প্রশংসা করেন, যেখানে প্রথমবার রোহিঙ্গা নেতারা চারদিনব্যাপী আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

    তিনি বাংলাদেশকে বিশেষ করে বৈশ্বিক শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে সংকটের টেকসই সমাধান অর্জনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

    বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ইউএনএইচসিআর প্রধানকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের চলমান শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেন।

    তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গার যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।’

    সূত্রঃ বাসস

  • জাতিসংঘে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আজ

    জাতিসংঘে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আজ

    জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন।

    প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন, সম্মেলনে অন্তত ৭৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানও রয়েছেন।

    নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) শুরু হবে এই সম্মেলন।

    জাতিসংঘ আয়োজিত এ সম্মেলনের লক্ষ্য রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন জোরদার করা, আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখা, সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং মানবাধিকারসহ সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় উদ্যোগ গ্রহণ।

    সম্মেলনে মিয়ানমারের বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে একটি সার্বিক, সুনির্দিষ্ট ও সময়সীমাবদ্ধ পরিকল্পনা প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। অগ্রাধিকার পাবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি।

    উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তৃতা করবেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    এ সম্মেলনে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) প্রতিনিধিত্ব করবে তুরস্ক এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) প্রতিনিধিত্ব করবে কুয়েত।

    সম্মেলনের আগে সোমবার হোটেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি, মিয়ানমার বিষয়ক মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। বৈঠকগুলোতে রোহিঙ্গা সংকটের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    পরে হোটেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, আলোচনায় রাখাইন রাজ্যের গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পথনকশা, শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

    সূত্রঃ বাসস

  • প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাটের সাবেক সিএসও ইমরান খানের সাক্ষাৎ

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাটের সাবেক সিএসও ইমরান খানের সাক্ষাৎ

    বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন বিনিয়োগকারী ও স্ন্যাপচ্যাটের সাবেক প্রধান কৌশলগত কর্মকর্তা (সিএসও) ইমরান খান সাক্ষাৎ করেছেন।

    নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শনিবার তিনি সাক্ষাৎ করেন। এ সময়ে ইমরান খান বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    ইমরান খানের বর্তমানের বয়স ৪৮ বছর। তিনি ১৮ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং প্রযুক্তি কোম্পানিতে বিনিয়োগ ব্যাংকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি আলেফ হোল্ডিং-এর বোর্ড চেয়ারম্যান।

    অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশে দ্রুত বর্ধনশীল ফিনটেক, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক ব্যবসা খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। ইমরান খান বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণে ইউনূসের আজীবন মিশন তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে এবং এখনই মাতৃভূমিতে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময়।

    তিনি অধ্যাপক ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি আপনার কাজের একজন বড় ভক্ত। আপনি আমাদের জাতীয় গর্ব।’

    জেপি মরগান ও ক্রেডিট সুইসে বিনিয়োগ ব্যাংকার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা ইমরান আলিবাবার রেকর্ড ভাঙা আইপিও-তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান। পরবর্তীকালে স্ন্যাপচ্যাটের সিএসও হিসেবে কয়েক মাসের মধ্যেই কোম্পানির মূল্য শূন্য থেকে ৭২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করেন।

    আলোচনায় ইমরান খান জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁর ভাষায়, ‘সময়টি অনুকূল। নিয়ন্ত্রক পরিবেশ এখন আরও সহায়ক হয়েছে।’

    তিনি বিশেষভাবে ফিনটেক খাতের দ্রুত বিকাশ নিয়ে আশা প্রকাশ করেন এবং সঠিক সুযোগ তৈরি হলে বিনিয়োগের আশ্বাস দেন। ‘বাংলাদেশ একটি ফ্রন্টিয়ার মার্কেট। এখানে ফিনটেক খাতে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বিপুল। তরুণ জনগোষ্ঠী বিশাল এবং সুযোগ সীমাহীন।’

    ইমরান খান ২০১৮ সালে প্রাইম অ্যাসেট নামে একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা মূলত প্রযুক্তি-নির্ভর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাওয়া খাতে বিশেষ বিনিয়োগ করে, বিশেষ করে ফিনটেক ক্ষেত্রে। তাঁর পোর্টফোলিওতে পেমেন্টস, ডিজিটাল অবকাঠামোসহ একাধিক খাত রয়েছে।

    অধ্যাপক ইউনূস ইমরান খানকে শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যেন তিনি নিজে এসে বিনিয়োগ সম্ভাবনা ঘনিষ্ঠভাবে দেখতে পারেন। জবাবে ইমরান খান আগামী মাসগুলোতে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনার কথা জানান।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণদের জন্য আপনার মতো রোল মডেল প্রয়োজন। দেশে এখন উদ্দীপনামূলক সময় চলছে—আপনি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন।’

    সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের প্রতি তাঁদের মোট বিনিয়োগের এক শতাংশ সামাজিক ব্যবসায় ব্যয় করার অথবা সমমনাদের অংশগ্রহণে একটি সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন। ইমরান খান এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং এতে ভবিষ্যতে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্রঃ বাসস

  • রাশিয়া থেকে ৫২,৫০০ মেট্রিক টন গম পৌঁছেছে কুতুবদিয়ায়

    রাশিয়া থেকে ৫২,৫০০ মেট্রিক টন গম পৌঁছেছে কুতুবদিয়ায়

    রাশিয়া থেকে ৫২ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন গম নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের কুতুবদিয়ার বর্হিনোঙ্গরে পৌঁছেছে।

    সোমবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, গত ৭ জুলাই করা নগদ ক্রয় চুক্তির আওতায় রাশিয়া থেকে ৫২ হাজার ৫ শত মেট্রিক টন গম নিয়ে ‘এমভি পার্থি’ জাহাজটি কুতুবদিয়া বর্হিনোঙ্গরে পৌঁছেছে।

    জাহাজে রক্ষিত গমের নমুনা পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পাশপাশি দ্রুত পণ্য খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ৫২ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন গমের মধ্যে ৩১ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন চট্টগ্রামে এবং অবশিষ্ট ২১ হাজার মেট্রিক টন গম মোংলা বন্দরে খালাস করা হবে।

    সূত্রঃ বাসস

     

     

     

     

     

     

     

  • দুর্গাপূজার নির্বিঘ্ন আয়োজনে কোথাও কোনো শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    দুর্গাপূজার নির্বিঘ্ন আয়োজনে কোথাও কোনো শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, এ বছর নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা নিয়ে কোথাও কোনো শঙ্কা নেই।

    আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এবার পূজা মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মোট ২ লাখ ৩ হাজার ৫৬৪ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

    এছাড়া ৭০ হাজার পুলিশ, ১ লক্ষ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও ৪৩০ প্লাটুন বিজিবি’র সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

    এছাড়াও প্রত্যেকটি পূজা মণ্ডপে মনিটরিং কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘পার্বত্য এলাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির সমাধানে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

    উপদেষ্টা বলেন, ‘মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় থেকে অনেক স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

    এ সময় পূজাকে ঘিরে গুজব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, কোর কমিটির বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, খাগড়াছড়ির উদ্ভূত পরিস্থিতি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সূত্রঃ বাসস

  • নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সিইসি

    নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সুষ্ঠু, সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

    সিইসি আরও বলেন, নির্বাচন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, মৃত ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ এবং পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারের অতিরিক্ত সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া নয়টি আইন সংশোধন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াবে।

    তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছি। সংস্কার কমিশনের আলোচনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে। আমরা নিশ্চিত করছি, যেকোন গ্যাপ থাকলে পূরণ করা হবে।

    সিইসি বলেন, এবার আমরা নিশ্চিত করব সকল ভোটার ভোট দিতে পারবে। প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। অতীতে রিটার্নিং অফিসাররাও ভোট দিতে পারতেন না। এবার তাদেরও ভোটাধিকারও নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরাও ভোট দিতে পারবেন।

    সংলাপে উপস্থিত ছিলেন চার নির্বাচন কমিশনার, কমিশনের সিনিয়র সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌস ছাড়া আরও ১৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

    সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের প্রস্তুতি, চ্যালেঞ্জ ও সমাধান নিয়ে সুশীল সমাজের মতামত গ্রহণ এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য সকল প্রাসঙ্গিক পদক্ষেপ নির্ধারণ।

    সূত্রঃ বাসস

  • অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার ফাইটারসহ ৪ জনের মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোক

    অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার ফাইটারসহ ৪ জনের মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোক

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে একটি রাসায়নিকের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনজন ফায়ার ফাইটারসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

    আজ রোববার এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডে জীবন রক্ষার মহৎ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের তিনজন সাহসী ফায়ার ফাইটারসহ চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। আমি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’

    তিনি বলেন, ‘অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর সদস্যরা দিনরাত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় নিয়োজিত থাকেন। নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তাঁরা অন্যের জীবন বাঁচানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের এই আত্মত্যাগের কাছে জাতি চিরঋণী। আজকের এই দুর্ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিল যে দায়িত্ব পালনের সময় তারা কত বড় ঝুঁকি বহন করেন। তাদের এ মহৎ ত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় শুধু কয়েকজন প্রাণ হারায়নি, বরং দৃষ্টান্ত দেখলাম আমাদের সাহস, মানবিকতা আর কর্তব্যনিষ্ঠার প্রতীকের। ফায়ার সার্ভিস দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং সাহসী বাহিনী। সংকটময় সময়ে তাঁরাই প্রথম ঝাঁপিয়ে পড়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আজ সেই মহৎ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের জীবন দিতে হয়েছে। এটি সমগ্র জাতির জন্য গভীর শোকের বিষয়।’

    তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সান্ত্বনা জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের প্রিয়জনরা নিছক প্রাণ হারাননি, তাঁরা জাতির জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। দেশের প্রতিটি মানুষ তাঁদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। আমি আপনাদের বেদনা ভাগ করে নিচ্ছি এবং দোয়া করছি এই কঠিন সময়ে আল্লাহ যেন আপনাদের ধৈর্য ও শক্তি দেন ।’

    প্রধান উপদেষ্টা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, ‘এই বেদনাবহ ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে—যাতে আমরা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পারি।’

    সূত্রঃ বাসস

  • প্রফেসর ইউনূসের প্রতি বিশ্বনেতাদের পূর্ণ সমর্থন

    প্রফেসর ইউনূসের প্রতি বিশ্বনেতাদের পূর্ণ সমর্থন

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ণ সমর্থন জানাতে শুক্রবার নিউইয়র্কে তাঁর হোটেল স্যুইটে একত্রিত হন বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা।

    তাঁরা বাংলাদেশকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সহযোগিতা ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিজামি গঞ্জাভি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের (এনজিআইসি) সহ-সভাপতি ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবারগার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এনজিআইসি’র নামকরণ করা হয়েছে খ্যাতনামা একাদশ শতকের পারস্য কবি নিজামি গঞ্জাভির নামে।

    উচ্চপর্যায়ের এই দলে ছিলেন স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরুত পাহোর, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরিস তাদিচ, লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এগিলস লেভিটস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, বুলগেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোসেন প্লেভনেলিভ ও পেতার স্তোইয়ানোভ, ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো যোসিপোভিচ, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সাবেক রপ্রেসিডেন্ট ম্লাদেন ইভানিচ এবং মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব-ফাকিম।

    এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জর্জিয়ার সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চারজন সাবেক সভাপতি, একাধিক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক সহ-সভাপতি ও এনজিআইসি’র সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন, মানবাধিকার সংগঠন রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস-এর প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি-এর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা।

    নেতৃবৃন্দ অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্ব ও আজীবন দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, ‘আমরা আপনাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে সমর্থন জানাতে এসেছি। আমরা আপনার পাশে আছি।’

    তাঁরা উল্লেখ করেন, প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে দীর্ঘ ১৬ বছরের দুর্নীতি, শোষণ ও কু-শাসনের কারণে দেশটি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

    বিভিন্ন নেতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেশ পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। তাঁদের একজন বলেন, ‘আমরা আপনার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। যে কোনো পরামর্শ বা সহায়তা প্রয়োজন হলে জানাবেন।’

    সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সফরকারী কেরি কেনেডি দেশের মানবাধিকার অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, ‘মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আপনাদের অর্জন অসাধারণ।’

    জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির নির্বাহী পরিচালক মেলান ভারভিয়ার জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠান শিগগিরই বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করবে। এনজিআইসি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সেরাগেলদিন বলেন, ‘আপনাদের প্রয়োজন হলে আমরা আছি।’

    সম্মেলনে প্রফেসর ইউনূস এভাবে অপ্রত্যাশিত সমর্থন পেয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আপনাদের একসঙ্গে আমাদের সমর্থনে দাঁড়ানো সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি একেবারেই মুগ্ধ।’

    তিনি বাংলাদেশের অবস্থা তুলনা করেন একটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফেরার সঙ্গে। তাঁর ভাষায়, ‘দেশটি গত ১৬ বছর ধরে একটি ভূমিকম্পের মধ্যে ছিল। এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৯।’

    প্রফেসর ইউনূস আরও বলেন, সীমিত সম্পদের কারণে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ‘মানুষ তাৎক্ষণিক পরিবর্তন দেখতে চায়। কিন্তু আমাদের অবশ্যই তরুণদের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে—তারা একটি নতুন বাংলাদেশ খুঁজছে।’

    তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সমর্থন করার আহ্বান জানান। প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘আমাদের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। আপনাদের পরামর্শ, সহযোগিতা ও নৈতিক শক্তি আমাদের জন্য অমূল্য।’

    সভায় এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্রঃ বাসস

  • শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু কাল; প্রস্তুত ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপ

    শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু কাল; প্রস্তুত ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপ

    বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আগামীকাল (রোববার) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ মহোৎসব। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আগামী ২ অক্টোবর পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের শেষ হবে।

    এ বছর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর ১ হাজার ৮৯৪টি বেশি মণ্ডপে দুর্গোৎসব পালন করা হবে।

    শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে যেন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। টানা চার দিনের সরকারি ছুটি উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

    সরকার নির্বাহী আদেশে আগামী বুধবার ছুটি ঘোষণা করেছে। পরদিন বৃহস্পতিবার শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি। এর সঙ্গে শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটি উপভোগ করবে দেশবাসী। রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা, মণ্ডপ নির্মাণ ও আলোকসজ্জাসহ সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

    শাস্ত্রকারদের মতে, দুর্গা ভক্তদের বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ, শোক, জ্বালা ও যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করেন। আরেক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন এবং তখন ভক্তরা তাকে ডাকলে তিনি কষ্ট দূর করেন।

    ‘মহাচণ্ডী’তে উল্লেখ আছে, ত্রেতা যুগে ভগবান রামচন্দ্র রাবণের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে শক্তি বৃদ্ধির আশায় শরৎকালে দেবী মহামায়ার পূজা করেছিলেন। এরপর তিনি যুদ্ধে জয়লাভ করে সীতাকে উদ্ধার করেন ও রাবণকে পরাজিত করেন। সেই থেকে প্রতিবছর শরৎকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গোৎসব পালন করে আসছেন।

    লোকনাথ পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামীকাল ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী, ২৯ সেপ্টেম্বর মহাসপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর মহাষ্টমী, ১ অক্টোবর মহানবমী এবং ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে শারদীয় দুর্গোৎসবের।

    এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে গজে (হাতি) এবং প্রস্থান হবে দোলায় (পালকি)। শাস্ত্রমতে, গজে আগমন শান্তি, সমৃদ্ধি ও শস্য-শ্যামলার প্রতীক। তবে দোলায় প্রস্থানকে অশুভ ধরা হয়, যা মহামারী বা মড়কের ইঙ্গিত বহন করে।

    বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বাসস’কে বলেন, সারাদেশে পূজার প্রস্তুতি শেষ। এ বছর ঢাকা মহানগরীতে ২৫৮টি মণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গাপূজা উদযাপন করা হবে।

    সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সারাদেশে ৩১ হাজার ৪৬১টি মণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ছিল ২৫২টি।

    হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানিয়েছেন, এ বছর অন্তর্বর্তী সরকার দুর্গাপূজার জন্য মোট পাঁচ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে।

    দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশ, আনসার, র‌যাব, বিজিবি এবং স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হবে।

    ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মণ্ডপে পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, বস্ত্র ও মহাপ্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা এবং বিজয়া শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে। এছাড়া রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজারসহ বিভিন্ন মন্দিরে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

    দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়সহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    এদিকে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক বিষয়াদি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

    সুত্রঃ বাসস

  • পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এখনই জরুরি: প্রধান উপদেষ্টা

    পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এখনই জরুরি: প্রধান উপদেষ্টা

    বাংলাদেশের প্রধান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমস্যার দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এখনই বাস্তবায়ন করতে হবে।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল মাত্র ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমারেখার ভিত্তিতে, যেখানে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকবে, তখনই ন্যায়বিচার কার্যকর হবে।

    নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে এ কথা বলেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি সবসময় মানুষকে আশার বাণী শুনিয়েছি, কখনো ভয় দেখিয়ে কিছু করা আমি সমর্থন করিনি। কিন্তু আজ আমাকে সেখান থেকে সরে এসে ভয়ংকর কিছু কথা বলতে হচ্ছে।

    আজ আমি সতর্ক করছি— চরম জাতীয়তাবাদ, অন্যের ক্ষতি হয় এমন ভূরাজনীতি, এবং অন্যের দুর্ভোগ ও পীড়নের প্রতি ঔদাসীন্য বহু দশকের পরিশ্রমে আমরা যে অগ্রগতি অর্জন করেছি তা ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

    তিনি গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, শিশুরা না খেয়ে অকাল মৃত্যুবরণ করছে, বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, হাসপাতাল, স্কুলসহ একটি গোটা জনপদ নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হচ্ছে।

    জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের পর্যবেক্ষণের সাথে একমত হয়ে তিনি বলেন, আমাদের চোখের সামনেই একটি নির্বিচার গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে। কিন্তু মানবজাতির পক্ষ থেকে এর অবসানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে না, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও ইতিহাস ক্ষমা করবে না।

    সূত্রঃ বাসস

  • বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহী ভুটান

    বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহী ভুটান

    ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

    তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে নতুন মাত্রা দেবে।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে সংস্থাটির সদর দপ্তরে শুক্রবার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে তোবগে এ প্রস্তাব দেন।

    তিনি জানান, ভুটানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘গেলেপু মাইন্ডফুলনেস সিটি (জিএমসি)’কে কুড়িগ্রামে ভুটানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে উভয় দেশ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভুটান উন্নত যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।’

    তিনি দুই দেশকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সব সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

    ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় পর্যটন প্রসারে তাঁর সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ভুটানে যেতে পারেন, যা পর্যটন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তোবগে জানান, ভুটান তাদের জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনাকে বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগাতে চায়। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভুটানের ওষুধশিল্পে বাংলাদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী তাঁর সরকার। এছাড়া তিনি ফাইবার অপটিক সংযোগ স্থাপনে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন।

    দুই নেতা রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা করেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ আয়োজিত পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তাঁর দেশ অংশ নেবে।

    অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তোবগে বলেন, বাংলাদেশ এখন ‘সঠিক নেতৃত্বে রয়েছে। তিনি তাঁকে তাঁর ব্যক্তিক ‘আদর্শ’ উল্লেখ করে শ্রদ্ধাভরে সম্বোধন করেন—‘মাই প্রফেসর।’

    ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি থিম্পুতে উদ্বোধন হওয়া বাংলাদেশের নতুন চ্যান্সারি ভবনের নকশারও প্রশংসা করেন, যা ‘হিমালয়ের পাদদেশে বঙ্গোপসাগর’ থিমে নির্মিত হয়েছে।

    বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তোবগে আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বলেন, তিনি সম্ভবত আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন হওয়ার আগে এ সফর করবেন।

    সূত্রঃ বাসস

  • হাসিনা-রেহানার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ৩ মামলায় আরও ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

    হাসিনা-রেহানার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ৩ মামলায় আরও ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানীর পূর্বাচলে নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুদকের করা তিনটি পৃথক মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন আরো ৯ জন।

    মামলা তিনটিতে অভিযুক্তের তালিকায় আরো আছেন, শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক।

    আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে পৃথক তিন মামলায় তারা সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য শেষে আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

    এর মধ্যে শেখ রেহানা, শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন চারজন। তারা হলেন, ইস্টার্ন হাউজিংয়ের নির্বাহী মহা-ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ফরহাদুজ্জামান, অপারেটিভ ডাইরেক্টর শেখ শমসের আলী, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ হিমেল চন্দ্র দাস এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আক্তার জাহান।

    আজমিনা সিদ্দিক, শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন চারজন। তারা হলেন, ইস্টার্ন হাউজিংয়ের নির্বাহী মহা-ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ফরহাদুজ্জামান, অপারেটিভ ডাইরেক্টর শেখ শমসের আলী, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ হিমেল চন্দ্র দাস এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আক্তার জাহান।

    রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আক্তার জাহান।

    দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ সালাম বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ রেহানার বিরুদ্ধে গত ১৩ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন।

    মামলায় টিউলিপ, রিজওয়ানা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়।
    আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগে একই দিনে অপর একটি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। মামলায় টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়।

    একই অভিযোগে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের বিরুদ্ধে একই দিন অন্য একটি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা ও শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়।

    গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

    সূত্রঃ বাসস

  • আজ রাতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা

    আজ রাতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন।

    সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

    প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বাসসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে বিগত এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক উদ্যোগ, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দৃঢ় অঙ্গীকার বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন।

    এবার উচ্চপর্যায়ের সভার মধ্য দিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮০তম বার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠান শুরু হবে।

    এ সফরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চারজন রাজনৈতিক নেতা থাকছেন। তাঁরা হলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এ বছরের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির সভাপতিত্বে ‘হাই লেভেল কনফারেন্স অন দ্য সিচুয়েশন অব রোহিঙ্গা মুসলিমস অ্যান্ড আদার মাইনোরিটিস ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা হবে। রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এমন একটি উচ্চ পর্যায়ের সভার আয়োজন এবারই প্রথম।

    এই উচ্চ পর্যায়ের সভা থেকে যেন রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানের একটি কার্যকর পরিকল্পনা উঠে আসে, সে জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদার ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে গত মাসে কক্সবাজারে একটি অংশীদার সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    অধ্যাপক ইউনূস গতবছর জাতিসংঘে যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন-তাঁর প্রেক্ষিতে এবার এই সম্মেলন হতে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সম্মেলন আয়োজনের জন্য প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া প্রস্তাব সদস্য রাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন দেয়।

    এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ২৫ সেপ্টেম্বর যুবকদের জন্য কর্মপরিকল্পনার ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন। বাংলাদেশ শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং মানবাধিকার আলোচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং শান্তিরক্ষী রাষ্ট্র হিসেবে দেশের অবদান তুলে ধরবে।

    অধ্যাপক ইউনূস তাঁর ভাষণে বিশ্বের নানা জরুরি ইস্যুও তুলে ধরবেন । এর মধ্যে রয়েছে-শান্তিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন ও জলবায়ু ন্যায়বিচার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, অবৈধ অর্থপাচার, নিরাপদ অভিবাসন ও অভিবাসী অধিকার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টেকসই প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা।

    সফরকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন।

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনও একাধিক বহুপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এর মধ্যে রয়েছে-কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভা, পিসবিল্ডিং কমিশন মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক, ‘জি-৭৭ ও চীন’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, নারী-শান্তি ও নিরাপত্তা ফোকাল পয়েন্ট নেটওয়ার্ক, ওআইসি বার্ষিক সমন্বয় সভা, বিমসটেক, সিকা এবং এলডিসি মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক।

    প্রধান উপদেষ্টা ২ অক্টোবর দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    সূত্রঃ বাসস