Author: বাসস

  • বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

    বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

    বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী ও জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই।

    আজ মঙ্গলবার ভোর ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

    সকাল সোয়া ৯টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, এই সংবাদটা নিয়ে সবার সামনে দাঁড়াতে হবে ভাবিনি। আমরা এবারও ভেবেছিলাম তিনি আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠবেন। আমরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছি আজ ভোর ৬ টায়, গণতন্ত্রের মা, আমাদের অভিভাবক, জাতির অভিভাবক আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন।

    মৃত্যুর সময় খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় হাসপাতালে আরও উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি।

    স্বজনদের মধ্যে ছোট ভাই শামীম এসকান্দার ও তার স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও শেষ সময়ে হাসপাতালে ছিলেন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাও ছিল তাঁর।

    হার্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা তদারকি করেন।

    এই মাসের শুরুতে চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় পরবর্তীতে তা সম্ভব হয়নি।

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি পেয়েছিলেন। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে জীবনের পরম সত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

    রাজনীতিকদের জীবনে উত্থান-পতন থাকে। মামলা-মোকদ্দমা, গ্রেপ্তার, কারাবাস, নির্যাতন, প্রতিপক্ষের আক্রমণ- এসবও তাঁদের জীবনে অভাবনীয় নয়। খালেদা জিয়াও চরম পর্যায়ের এমন নির্যাতন সহ্য করেছেন। সহ্য করেছেন স্বামী-সন্তান হারানোর গভীর শোক আর দীর্ঘ রোগযন্ত্রণা।

    রাজনৈতিক জীবনে মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত ছাড়াও প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ, লাঞ্ছনা ও নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন খালেদা জিয়া।

    বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন, যিনি ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান ছিলেন।

    ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে দেশভাগের পর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে চলে আসেন। তাঁদের আদি বাড়ি ফেনীতে। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।

    জিয়াউর রহমান বীর উত্তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বেগম জিয়া ফার্স্ট লেডি হিসেবে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন। এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এবং নেদারল্যান্ডসের রানি জুলিয়ানাসহ বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    ১৯৮১ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়ার মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

    বেগম জিয়া দেশের রাজনীতিতে একটি অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি কখনো কোনো আসনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই বিজয়ী হন।

    সূত্রঃ বাসস

  • সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে

    সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে

    সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন এই আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।

    সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে আজ সোমবার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

    এছাড়া অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

    সোমবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে।

    ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

    আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

    মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

    আজ সকাল বাতাসের গতিবেগ ছিল, পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘন্টায় ৮ থেকে ১২ কি. মি.।

    সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।

    গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রামের টেকনাফে ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজ সকাল ৬টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ঢাকা বিভাগের নিকলিতে ১০ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস

    ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ২১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪০ মিনিট।

    সূত্রঃ বাসস

  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আজ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আজ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ঢাকার বিভিন্ন আসনে মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হচ্ছে আজ।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এখন পর্যন্ত ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

    এর মধ্যে রয়েছেন— ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেন, ঢাকা-১৩ আসনে ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১০ আসনে রবিউল ইসলাম, ঢাকা-১৪ আসনে সানজিদা ইসলাম তুলি, ঢাকা-১৬ আসনে আমিনুল হক এবং ঢাকা-১৪ আসনে ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমানসহ আরও অনেকে।

    এছাড়া রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সূত্র জানিয়েছে, আজ দুপুরে বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত আরও কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের সময়সীমা শেষ হবার আগে গতকাল (রোববার) সারাদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সারাদেশে এখন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন প্রায় ৩ হাজার প্রার্থী।

    জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা।

    এদিকে, ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। এই সময়ের পর প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হবে।

    সূত্রঃ বাসস

  • ইসরাইলের হামলার পর ফিলিস্তিনি গ্রাম অবরুদ্ধ

    ইসরাইলের হামলার পর ফিলিস্তিনি গ্রাম অবরুদ্ধ

    প্রাণঘাতী হামলার জেরে অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রাম শনিবার সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করেছে ইসরাইলি বাহিনী। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সেখানে সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। ইসরাইলের ভেতরে এক স্থানীয় বাসিন্দার হামলায় দুইজন নিহত হওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফিলিস্তিনি ভূখন্ডের কাবাতিয়া থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ শনিবার তার দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনী কাবাতিয়া গ্রামে সন্ত্রাসী ঘাঁটির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে এবং এর অংশ হিসেবে পুরো এলাকা লকডাউন করা হয়েছে ও চারদিক ঘিরে ফেলা হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপসহীন আক্রমণাত্মক নীতি অব্যাহত থাকবে।’

    উত্তর পশ্চিম তীরের জেনিনের দক্ষিণে অবস্থিত কাবাতিয়ার বাসিন্দা বিলাল হুনাইশা বলেন, তার গ্রামকে “ইসরায়েলি দখলদারত্বের পক্ষ থেকে সমষ্টিগত শাস্তির মুখে ফেলা হয়েছে।’

    তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আপনি দেখতেই পাচ্ছেন, আমার বাড়ির পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি আর চলাচল করতে পারছি না।’ এ সময় তিনি রাস্তা আটকে রাখা ধ্বংসস্তূপের দিকে ইঙ্গিত করেন।

    শুক্রবারের ওই হামলায় ৩৪ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তি উত্তর ইসরায়েলে দুইজনকে হত্যা করে। ইসরায়েলি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধভাবে ইসরায়েলে কাজ করছিলেন। তিনি তার নিয়োগকর্তার গাড়ি দিয়ে ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে চাপা দেন। পরে ছুরি দিয়ে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে হত্যা করেন।

    হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত কাবাতিয়ায় অভিযান শুরু করে। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

    শনিবার ইসরাইলি সেনাপ্রধান এয়াল জামির ওই এলাকায় মোতায়েন সেনা সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

    সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই সময়টি একক হামলাকারী ও অবৈধভাবে (ইসরায়েলে) অবস্থানকারী ব্যক্তিদের দ্বারা চিহ্নিত। যারা তাদের পরিবহন ও কর্মসংস্থান দেয়, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা জোরদার ও উন্নত করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে এসব হামলাকারীকে শনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।’

    কাবাতিয়ার বাসিন্দা মুহান্নাদ জাকারনেহ এএফপিকে জানান, ভোর ছয়টায় সেনারা তাকে বাড়ি থেকে গেফতার করে। তিনি বলেন, ‘আমাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি যখন জানতে চেয়েছিলাম আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, তখন কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।’

    ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, প্রবেশপথ বন্ধ করা, জিজ্ঞাসাবাদ ও বাড়ি তল্লাশির পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনী একটি স্কুল দখল করে সেটিকে ‘আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনিদের হামলায় ইসরায়েলের ভেতরে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন বিদেশিও রয়েছেন। সরকারি ইসরায়েলি তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    একই সময়ে, ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

    ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে সহস্রাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বহু যোদ্ধার পাশাপাশি কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিকও রয়েছে।

    অন্যদিকে, ইসরাইলের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি হামলা বা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৪ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সেনা ও বেসামরিক উভয়ই রয়েছে।

    সূত্রঃ বাসস

  • নির্বাচনকে সামনে রেখে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    নির্বাচনকে সামনে রেখে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    আগামী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সব ধরনের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    আজ রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের তথ্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং সব ধরনের সাইবার অপরাধকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’

    তিনি বলেন, সরকার সব ধরনের নাগরিক সেবাকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে অনেক সেবা দেশে ও বিদেশে অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। এসব সেবাকে সুরক্ষিত ও নির্বিঘ্ন রাখতে হলে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।

    নাগরিক সেবার খাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা।

    তিনি বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ যেসব প্রতিষ্ঠান সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তাদের নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ করতে হবে। পাশাপাশি এসব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত জনবলকেও আরও দক্ষ করে তুলতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট জনবলকে একটি রেটিং পদ্ধতির আওতায় আনতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাইবার সুরক্ষাসহ প্রকৃত মূল্যায়ন সহজ হয়।

    ফিনান্সিয়াল সেক্টরে কোনো অপরাধ করে যেন কেউ পার পেয়ে না যায়—সে বিষয়েও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে বিচার বিভাগের পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

    বৈঠকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।

    এছাড়া আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশনসহ অন্যান্য সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি এবং বিটিআরসির মধ্যকার সমন্বয় সাধনের বিষয়ে জোর গুরুত্ব আরোপ করেন।

    সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরের সাইবার নিরাপত্তা আরও দৃঢ় করতে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আরও কিছু কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    এছাড়া তিনি সেক্টরাল সার্ট (সিইআরটি) গঠনের উদ্দোগের প্রশংসা করেন।

    জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য সচিব ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এজেন্সির কার্যক্রম ও ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনাসহ সাইবার পরিমন্ডলে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ গ্রহন ও পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রণীত ‘সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং এন্ড রেসপন্স সিস্টেম’ এর বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।

    সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

    ২১ মে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়নের পর এই সংশোধিত অধ্যাদেশের অধীনে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২৬ আগস্ট জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠিত হয়।

    ২৫ সদস্যের এই কাউন্সিলের নেতৃত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।

    সূত্রঃ বাসস

  • মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হচ্ছে কাল, সংগ্রহ করেছেন ২৭৮০ জন

    মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হচ্ছে কাল, সংগ্রহ করেছেন ২৭৮০ জন

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গত ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর থেকে আজ রোববার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ২ হাজার ৭৮০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ সময়ের মধ্যে ৩১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

    আজ রোববার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    ইসি ঘোষিত তফসিলের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামীকাল ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন।

    গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

    তবে, ১৮ ডিসেম্বর তফসিল সংক্রান্ত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় দু’দিন কমিয়ে আপিল নিষ্পত্তির সময় দু’দিন বৃদ্ধি করেছে ইসি।

    ইসির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের (অতঃপর সংবিধান বলে উল্লিখিত) অনুচ্ছেদ ৬৫-এর অধীন সংসদ গঠন করার লক্ষ্যে সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা প্রয়োজন; সেহেতু, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১১ এর দফা (১) অনুসারে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, জাতীয় সংসদ গঠন করার উদ্দেশ্যে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকা হতে একজন সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোটারগণকে আহ্বান জানাচ্ছে এবং উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিম্নবর্ণিত সময়সূচি ঘোষণা করছে।’

    রিটার্নিং কর্মকর্তা/সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর, সোমবার।

    রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার থেকে ৪ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত।

    মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের তারিখ ৫ জানুয়ারি সোমবার থেকে ৯ জানুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত।

    আপিল নিষ্পত্তির তারিখ ১০ জানুয়ারি শনিবার থেকে ১৮ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার। প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ২১ জানুয়ারি বুধবার।

    ভোটগ্রহণ, ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    সূত্রঃ বাসস

  • সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লির মন্তব্য প্রত্যাখ্যান ঢাকার

    সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লির মন্তব্য প্রত্যাখ্যান ঢাকার

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) মুখপাত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্য দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা।

    আজ রোববার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও পাবলিক ডিপ্লোমেসি উইংয়ের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এমন যেকোনো বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বর্ণনা সরকার স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ভারতীয় মুখপাত্রের মন্তব্য বাস্তবতার প্রতিফলন নয়।’

    দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধমূলক ঘটনাকে পদ্ধতিগতভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিপীড়ন হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এগুলোকে ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন অংশে বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া হচ্ছে।

    আলম বলেন, ‘কিছু মহলে আমরা বাছাইকৃত ও অন্যায্য পক্ষপাত লক্ষ্য করছি—যেখানে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে বাড়িয়ে দেখানো, বিকৃতভাবে উপস্থাপন ও প্রচার করে সাধারণ ভারতীয় জনগণকে বাংলাদেশ, ভারতের বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।’

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যে ব্যক্তির উদাহরণ দিয়েছেন, তিনি তালিকাভুক্ত একজন অপরাধী ছিলেন—এ কথা উল্লেখ করে আলম বলেন, ওই ব্যক্তি তার এক মুসলিম সহযোগীর সঙ্গে চাঁদাবাজির সময় নিহত হন; পরে ওই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা বাস্তবসম্মত নয়, বরং বিভ্রান্তিকর।’

    বাংলাদেশের মুখপাত্র ভারতের বিভিন্ন মহলকে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থার চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে এমন বিভ্রান্তিকর বর্ণনা ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

    এক প্রশ্নের জবাবে আলম বলেন, ভারতে মুসলিম, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গণপিটুনি, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিঘ্ন সৃষ্টির ঘটনায় ঢাকা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

    তিনি জানান, চলতি মাসে উড়িষ্যায় চুরির অভিযোগে জুয়েল রানা নামে এক মুসলিম যুবকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, বিহারে মোহাম্মদ আতাউর হোসেনের হত্যাকাণ্ড, কেরালায় বাংলাদেশি সন্দেহে এক নিরীহ ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা এবং বিভিন্ন স্থানে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে একাধিক গণহিংসা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    গত সপ্তাহে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উদযাপনের সময়ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    আলম বলেন, ‘এসব ঘটনাকে ঘৃণাজনিত অপরাধ ও লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমরা আশা করি, ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনবে।’

    তিনি আরও বলেন, প্রতিটি দেশেরই দায়িত্ব তার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই সে দায়িত্ব পালন করা।

    সূত্রঃ বাসস

  • ৭ জানুয়ারির মধ্যে ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট : ডিএমপি কমিশনার

    ৭ জানুয়ারির মধ্যে ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট : ডিএমপি কমিশনার

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে আদালতে পেশ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

    শনিবার রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে। যারা ঘটনার পিছনে আছে তাদের সবার নাম ও ঠিকানা উন্মোচিত করে দেব।’

    তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। সরকার পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‌যাবসহ সব গোয়েন্দা সংস্থাকে ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা উদঘাটনের দায়িত্ব দিয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।’

    মামলার তদন্তে এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।

    যার মধ্যে অভিযুক্ত ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সামিয়া, স্ত্রীর বড় ভাই শিপু এবং গার্লফ্রেন্ড মারিয়াও রয়েছে।

    শেখ মো. সাজ্জাত আলী আরও বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা দু’টি পিস্তল আমরা উদ্ধার করেছি। তদন্তের স্বার্থে অস্ত্র দুটি বর্তমানে সিআইডিতে সায়েন্টিফিক পরীক্ষার জন্য রাখা হয়েছে।’

    তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার সই করা একটি চেকও উদ্ধার করা হয়েছে।

    ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, এটি একটি রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড। এর পেছনে অনেকের জড়িত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তা উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    সূত্রঃ বাসস

  • সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন বেগম খালেদা জিয়া: ডা. জাহিদ হোসেন

    সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন বেগম খালেদা জিয়া: ডা. জাহিদ হোসেন

    হাসপাতালে চিকিৎসারত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল। তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    চিকিৎসারত খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ কী অবস্থা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এই চিকিৎসক বলেছেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই উনার (খালেদা জিয়া) অবস্থার উন্নতি হয়েছে, এ কথা বলা যাবে না। উনার (খালেদা জিয়া) অবস্থা অত্যন্ত জটিল, এবং উনি একটা সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন।’

    শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় বেগম খালেদা জিয়ার চলমান চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন।

    এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর এখানে (এভারকেয়ার হাসপাতাল) ভর্তি হয়েছেন; ভর্তি হওয়ার পরবর্তীতে উনার (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থার বেশ অবনতি হয়েছিল।’ স্বাস্থ্যের ক্রমাগত অবনতির কারণেই খালেদা জিয়াকে কেবিন থেকে সিসিইউ এবং সেখানে থেকে পরবর্তীতে আইসিইউতে নেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

    খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে তাঁর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের এই সদস্য বলেন, দেশি-বিদেশি চিকিৎসকেরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে চিকিৎসা দিচ্ছেন, তাঁর পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান তাতে যুক্ত রয়েছেন।

    এজেডএম জাহিদ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার সহধর্মণী ডাক্তার জুবাইদা রহমান সহ কিছুক্ষণ আগে দ্বিতীয়বারের মতো হসপিটালে বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এসেছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় তার মায়ের শয্যাপাশে ছিলেন।

    ১৭ বছর পর গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন থেকে ফেরার পর মাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। আজ শনিবার দিনভর নানা কর্মসূচি শেষে আবারও মাকে দেখতে যান তিনি। দুই ঘণ্টার বেশি সময় সেখানে অবস্থান করে রাত ১১টা ৫৮মিনিটে তিনি হাসপাতাল ছাড়েন।

    ডা: জাহিদ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইসিইউতে থাকা তার মায়ের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। এবং এতোদিন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশে মানুষ যে দোয়া করেছে, এজন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন৷

    একইসঙ্গে যেসকল চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য প্যারামেডিক্স তার মায়ের চিকিৎসার জন্য সবসময় দায়িত্ব পালন করছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন- যোগ করেন ডা: জাহিদ।

    জাহিদ আরও বলেন, এভারকেয়ার হসপিটালে ভর্তিকৃত রোগী এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যাতে কোন ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য তারেক রহমান সতর্ক থাকতে বলেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদেরকে হাসপাতালে অহেতুক ভীড় না জমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    বেগম খালেদা জিয়ার এই ব্যাক্তিগত চিকিৎসক বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে চিকিৎসা এখানে চলছে। দেশ বিদেশের চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চ মেধা দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে। এবং দায়িত্ব পালন করতে থাকবেন।

    গত ২৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নানা শারীরিক জটিলতার মধ্যে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের সমস্যা ওঠানামা করছে। নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁর কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়মিত করা হচ্ছে।

    খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার কথা বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা আকাশযাত্রার উপযোগী না হওয়ায় দেশেই তাঁর চিকিৎসা চলমান রয়েছে।

    সূত্রঃ বাসস

  • প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী

    প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী

    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন ।

    আজ রোববার সকালে বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

    শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ।

    অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করে।

    এর আগে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গত ২৩ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ শপথের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

    এদিকে বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ গতকাল শনিবার অবসরে গেছেন। এদিন তাঁর চাকরির মেয়াদ ৬৭ বছর পূর্ণ হয়।

    আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৮৫ সালে জেলা জজ আদালতে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং দুই বছর পর বিচারপতি হিসেবে তাঁকে স্থায়ী করা হয়।

    ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উন্নীত করা হয়।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

    সূত্রঃ বাসস

     

  • ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

    ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপির) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছেন।

    আজ শনিবার সকাল ১১টার পরে তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে ওসমান হাদির কবরে পৌঁছান।

    তারেক রহমান এ সময় ওসমান হাদির কবরে ফুল দেন এবং ফাতিহা পাঠ ও হাদিসহ জুলাইয়ের সকল শহীদের জন্যে দুহাত তুলে আল্লাহ’র দরবারে দোয়া ও মোনাজাত করেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

    হাদির কবর জিয়ারতের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সিনিয়র নেতাকর্মীরা।

    এছাড়াও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা: নিয়াজ আমহেদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা লুৎফর রহমানসহ আরো অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হন তারেক রহমান। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানানো হয়, তিনি ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

    আজ আগের দুই দিনের মতো লালুসবুজ রঙে সাজানো বাস ব্যবহার না করে সাদা রঙের একটি গাড়িতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান তারেক রহমান। গাড়িটি ফুল দিয়ে সাজানো ছিল। এ সময় রাস্তার দুপাশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের অবস্থান করতে দেখা যায়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

    তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। টিএসসি থেকে হাদির কবর পর্যন্ত দুই স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়। শাহবাগের দিকেও পুলিশের ব্যারিকেড ও নজরদারি ছিল।

    এর আগে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে টিএসসি এলাকায় অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সংগঠনের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নেতৃত্বে তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান করেন।

    কবর জিয়ারত শেষে ভোটার হওয়ার জন্য নির্বাচন ভবনে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সেখান থেকে ধানমন্ডিতে মাহবুব ভবনে যাবেন তিনি।

    ধানমন্ডির মাহবুব ভবনে কিছু সময় থাকার পর বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার মা খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ারে যাবেন তারেক রহমান।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, জুলাই গণুঅভ্যুত্থানের কোনো আহত ব্যক্তি বর্তমানে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি না থাকায় সেখানে যাওয়ার কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে ঢাকায় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা সমাবেশে সারা দেশ থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

    সূত্রঃ বাসস

  • আই হ্যাভ এ প্ল্যান : তারেক রহমান

    আই হ্যাভ এ প্ল্যান : তারেক রহমান

    দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে রাজধানীর পূর্বাচলে লাখো মানুষের সমাবেশে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমান স্মরণ করলেন মার্টিন লুথার কিংয়ের অমর বাণী; সেই অমর বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে বললেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’।

    দেশবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, মার্টিন লুথার কিং—নাম শুনেছেন না আপনারা? নাম শুনেছেন তো আপনারা? মার্টিন লুথার কিং, তার একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে—‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই— ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান; ফর দি পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।’

    তিনি বলেন, আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য; যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়—প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি—যত মানুষ উপস্থিত আছেন; প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে।

    তিনি আরো বলেন, আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।

    দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেই ঢাকার পূর্বাচলে ৩০০ ফিট সড়কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে দলের পক্ষ থেকে নির্মিত মঞ্চে তিনি ১৬ মিনিট বক্তৃতা করেন। এসময় মঞ্চে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    দীর্ঘ দেড় যুগ পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সর্বসাধারণের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ, কৌতূহল ও আবেগের সঞ্চার হয়েছে। এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং সর্বজনীন প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জনসমাগম।

    সূত্রঃ বাসস

  • আজ শুভ বড়দিন

    আজ শুভ বড়দিন

    আজ ২৫ ডিসেম্বর, খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন।

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ দিনেই ফিলিস্তিনের বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিষ্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় প্রার্থনা, ধর্মীয় আচার ও আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছে।

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ বড়দিন উদযাপন করা হচ্ছে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে। এ উপলক্ষ্যে দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। খ্রিষ্টান ধর্মানুসারীরা গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার পাশাপাশি পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন।

    বড়দিন উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গির্জাগুলো সাজানো হয়েছে নতুন রূপে। আলোকসজ্জা, ফুল, ব্যানার ও ধর্মীয় প্রতীকে গির্জাগুলো উৎসবের আবহে সজ্জিত করা হয়েছে। গত সন্ধ্যা থেকেই অনেক গির্জা ও স্থাপনায় আলোর ঝলকানি বড়দিনের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

    খ্রিষ্টান পরিবারগুলোতেও বড়দিনকে ঘিরে রয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে কেক ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। পরিবারের সদস্যদের একত্রে সময় কাটানো, খাওয়াদাওয়া ও আনন্দ উপভোগ বড়দিনের অন্যতম অনুষঙ্গ। অনেক এলাকায় ধর্মীয় সংগীত ও প্রার্থনাসভা আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে অংশ নিচ্ছেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ।

    অনেকেই আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাতে রাজধানী ও বড় শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। পরিবারকেন্দ্রিক এই আনন্দই বড়দিনের উৎসবকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

    রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড়দিনের আমেজ চোখে পড়ছে। ক্রিসমাস ট্রি, শান্তা ক্লজ ও আলোকসজ্জায় সেজেছে বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা। বড়দিনের আগের রাতে অনেক গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। আজ সকালেও বিভিন্ন গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবকল্যাণ কামনা করা হয়।

    খ্রিষ্টানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশুখ্রিষ্ট মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। তাঁর শিক্ষা মানবপ্রেম, ক্ষমা, সহনশীলতা ও শান্তির বার্তা বহন করে। বড়দিনে সেই শিক্ষার আলোকে সমাজে মানবিকতা ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

    ঢাকার গির্জাগুলোতে বড়দিনের প্রস্তুতি চোখে পড়ার মতো। তেজগাঁওয়ের পবিত্র জপমালা রানীর গির্জা ও মোহাম্মদপুরের সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চে করা হয়েছে বিশেষ সাজসজ্জা।

    পবিত্র জপমালা রানীর গির্জায় আজ সকাল সাতটা ও নয়টায় এবং সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চে সকাল আটটায় বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব প্রার্থনায় অংশ নেন হাজারো মানুষ।

    গির্জায় আগত যিশুভক্তরা জানান, তারা প্রার্থনা ও ধর্মীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শান্তি, ভালোবাসা ও মানবতার আহ্বান জানাচ্ছেন। অনেকে নীরবে মোমবাতি জ্বালিয়ে যিশুখ্রিষ্টের আদর্শ স্মরণ করছেন।

    সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চের পাল পুরোহিত ফাদার কাজল পিউরিফিকেশন বলেন, এবারের বড়দিনে বিশ্ব ও দেশের শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে, যা সব ধর্মের মানুষের কল্যাণ কামনায় নিবেদিত। পবিত্র জপমালা রানীর গির্জার পুরোহিত ফাদার জয়ন্ত এস গোমেস বলেন, যিশুখ্রিষ্ট প্রান্তিক মানুষের মর্যাদা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই এবারের প্রার্থনার মূল বিষয়।

    বড়দিন উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে। তিনি এই সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করে দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বাণীতে যিশুখ্রিষ্টকে মানবজাতির মুক্তির দূত ও আলোর দিশারি হিসেবে অবহিত করে বলেন, যিশু শান্তি, সত্য ও ন্যায়ের বাণী প্রচার করে গেছেন। তিনি খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের দেশপ্রেম ও মানবতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    শুভ বড়দিন শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির প্রতীক, যা সমাজে শান্তি ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠায় মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।

    সূত্রঃ বাসস

  • অবশেষে মায়ের কাছে ফিরলেন তারেক রহমান

    অবশেষে মায়ের কাছে ফিরলেন তারেক রহমান

    নির্বাসন ও সংগ্রামের দীর্ঘ দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মায়ের কাছে ফিরলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    আজ বৃহস্পতিবার তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট (বিজি-১০২) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

    বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

    বিমানবন্দর থেকে বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ জিপে চড়ে ৩০০ ফিট এলাকায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলের দিকে রওনা হবেন তিনি। সেখানে বিশেষ মঞ্চে উঠে নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

    এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে রওনা হন।

    বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারেক রহমানের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হলো সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তার গুরুতর অসুস্থ মমতাময়ী মা, বাংলাদেশের অভিভাবক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়া। তবে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে, যাত্রাপথের মাঝামাঝি রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় দলের পক্ষ থেকে তৈরি করা সংক্ষিপ্ত গণঅভ্যর্থনা মঞ্চে তিনি অতি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেশবাসীর উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন। সেখান থেকে তিনি হাসপাতালে গিয়ে মায়ের পাশে একান্ত কিছু সময় কাটাবেন। এরপর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন তারেক রহমান।

    আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা জিয়াউর রহমানের মাজার ও সাভার স্মৃতিসৌধে যাবেন তারেক রহমান। শনিবার নির্বাচন কমিশনে এনআইডি কার্যক্রম শেষ করে শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন তিনি। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে যাবেন।

    দীর্ঘ দেড় যুগ পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুডড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সর্বসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, কৌতূহল ও আবেগের সঞ্চার হয়েছে। এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং সর্বজনীন প্রত্যাশা ও আকাঙ্খার মেলবন্ধন, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জনসমাগমের সম্ভাবনা।

    ইতিহাস বলে, রাজনীতিতে সময় সবকিছুর উত্তর দিয়ে দেয়। তারেক রহমানের বেলায় এই কথাটির যেন সত্য হয়ে ধরা দিয়েছে। একদিন পাহাড়সম অভিযোগ মাথায় নিয়ে চিকিৎসার জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যে, ছিলেন নির্বাসনে। আজ দেড় যুগ পরে তিনি দেশের মাটিতে ফিরে আসছেন আগের চেয়ে কয়েকগুন বেশি জনপ্রিয়তা নিয়ে, গণ-মানুষের নেতা আর জাতির ঐক্যের প্রতীক হয়ে।

    তারেক রহমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পথ পরিক্রমা এতোটাও মসৃণ ছিল না। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের শাসনামলে তার বিরুদ্ধে তৈরি করা হয়েছিল বিতর্কের পাহাড়। মাথার উপরে ঝুলতে থাকে অসংখ্য মামলা। তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ, ১/১১-এর সেনা সমর্থিত সরকার এবং সুশীল সমাজের একটি প্রভাবশালী অংশ তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগের আঙ্গুল তুলতে থাকে।

    অভিযোগ ছিল, তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয় বনানীর হাওয়া ভবন ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র বা প্যারালাল গভর্নমেন্ট। তবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর এবং স্পর্শকাতর অভিযোগটি আনা হয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে কেন্দ্র করে। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় এবং পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সম্পূরক চার্জশিটের মাধ্যমে মুফতি হান্নানের জবানবন্দির ভিত্তিত তাকে এই হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।

    আলোচিত ১/১১ সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। রিমান্ডে থাকাকালীন তার ওপর চালানো হয় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। এতে গুরতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্ত হোন। ১৮ মাস কারাভোগের পরে লন্ডনে যান চিকিৎসার জন্য। এর পর কেটেছে ১৭ বছরেরও বেশি সময়। ছুঁয়ে দেখা হয়নি দেশের মাটি। দীর্ঘ এক নিবাসিত জীবন।

    ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে। তারা গণতন্ত্রের পথকে অবরুদ্ধ করার জন্য ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করে দেয়। বেগম খালেদা জিয়াকে তার বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। একটি জবরদস্তিমূলক শাসনব্যাবস্থা কায়েম করেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা।

    ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্ণীতির মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা হয় এবং তাকে কারাবরণ করতে হয়। বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে দলের হাল ধরেন তারেক রহমান। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। এর পর থেকেই দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের নেমে পড়েন। গুম খুন আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে ব্যাস্ত তারেক রহমান।

    যুক্তরাজ্যে নির্বাসনের সময় ব্যক্তিগত জীবনেও তারেক রহমানের ওপর নেমে আসে কঠিন দুঃসময়। ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। একইসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বহুবার কারাবাস, অসুস্থতা ও চিকিৎসা সংকটের মুখোমুখি হন। এমন বাস্তবাতায় দূরবর্তী অবস্থান থেকেও তারেক রহমান সংগঠন ধরে রাখার কাজে স্থির মনোনিবেশ করেন। কারণ, তারেক রহমান জানতেন, ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতে চায়। ফলে নিজেকে সামনে এনে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আন্দোলনের পরিবর্তে জনগণ কেন্দ্রিক একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। তিনি সুস্পষ্ট করে দেন- ‘বাংলাদেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে। যা দলীয় নেতাদের মতে তাঁর ধৈর্য ও স্থিতধী নেতৃত্বের প্রমাণ।

    দীর্ঘ সময় সুদূর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্ত, কৌশলগত পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক নির্দেশনায় এখন তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় চালিকাশক্তি। দলটির শীর্ষস্থানীয় থেকে কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তারেক রহমান। তার রাজনৈতিক চরিত্রের মধ্যে দলের কর্মী-সমর্থকেরা খুঁজে পাচ্ছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। নেতাকর্মীরা বলছেন, একজন নেতার নেতৃত্বের মুল শক্তি থাকে তাঁর ন্যায়বোধ আর মানসিতায়। তাঁর আদর্শের মহিমায়।

    তারেক রহমান তেমনই একজন নেতা; যিনি দূর থেকেও ছিলেন সবচেয়ে কাছে।

    ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিছক কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক আবেগঘন, গভীর অর্থবহ অধ্যায়। তার এই প্রত্যার্ব্যনে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাদের বিশ্বাস- তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর দলকে নতুন করে সংগঠিত করবে। পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হবে নতুন বাস্তবতা। তভর নেতৃত্বে দেশে ফিরবে গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটবে।

    সূত্রঃ বাসস

  • বড়দিন উপলক্ষে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা বিনিময়

    বড়দিন উপলক্ষে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা বিনিময়

    বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    আজ বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

    ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বাংলাদেশের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ, ন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের সভাপতি বিশপ ফিলিপ পি অধিকারী, খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ড. বেনেডিক্ট আলো ডি রোজারিও, জাতীয় চার্চ পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি খ্রিস্টোফার অধিকারীসহ দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    এ সময় খ্রিস্টান ধর্মের নেতারা তাঁদের শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সুনাম এবং দেশের অর্থনীতি ও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজিত হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

    আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে যিশু খ্রিস্টকে সার্বজনীন উল্লেখ করে বলেন, যিশু খ্রিস্টের ক্ষমা ও মানবসেবার মহান আদর্শকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষও এ বছর উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে বড়দিন উদযাপন করছে।

    প্রধান উপদেষ্টাকে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে জনগণ আপনার ওপর আস্থা রেখেছিল। আপনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। আমরা প্রার্থনা করি, একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আপনার প্রচেষ্টা সফল হবে।’

    প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে বড়দিন ও আসন্ন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা সমাজের প্রতিবিম্ব। আপনাদের দেখলে বুঝতে পারি, সবকিছু ঠিক আছে কিনা।’

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে চাই। সে জন্যই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে জুলাই সনদ প্রস্তুত করা হয়েছে। এই সনদের ওপর গণভোটের মাধ্যমে দেশ আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।

    তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে জনগণ যে রায় দেবে, পরবর্তীতে সংসদ সেভাবেই সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

    প্রধান উপদেষ্টা এ সময় আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে আড়াই কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার জন্য অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ। দেশব্যাপী ৮০০টি চার্চের মধ্যে তিন ধাপে এ অনুদান বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।

    পরে বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন প্রধান উপদেষ্টা।

    সূত্রঃ বাসস

  • তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: নতুন রাজনীতির সূচনা

    তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: নতুন রাজনীতির সূচনা

    // মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর //

    বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতির আকাশে দীর্ঘ আঠারো বছর ধরে যে শূন্যতা, হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাসের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছিল, আজ (বৃহস্পতিবার) তা এক বিশাল প্রত্যাশার আলোকবর্তিকা হয়ে উদিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যাকে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে প্রতিহিংসার রাজনীতি আর ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার বেড়াজালে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, তিনি আগামী ২৫ ডিসেম্বর বীরের বেশে ফিরছেন তার প্রিয় মাতৃভূমিতে। এই দীর্ঘ প্রবাসজীবন কিংবা নির্বাসন কেবল তার ব্যক্তিগত লড়াই ছিল না, বরং তা ছিল বাংলাদেশের লুণ্ঠিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার এক সুদীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ সংগ্রাম।

    দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারা অন্তরীণ রেখে এবং তারেক রহমানকে ভৌগোলিকভাবে দূরে ঠেলে দিয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে এদেশের জাতীয়তাবাদী চেতনাকেই সমূলে উৎপাটন করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসের অমোঘ নিয়ম এই যে, সত্য ও ন্যায়কে সাময়িকভাবে অবদমিত রাখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা বিজয়ী বেশে আত্মপ্রকাশ করে।

    তারেক রহমানের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতিকালে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত বন্ধুর এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষমতার লালসায় কিংবা রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের নজিরবিহীন ভয়-ভীতিতে দলের বহু নেতাকর্মীকে বিচ্যুত করার অপচেষ্টা হয়েছে বারবার। বিএনপিকে ভেঙে ফেলার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলেছে প্রতিটি স্তরে। কিন্তু সেই চরম দুর্দিনেও দলের ঐক্য যে অটুট ছিল এবং কোনো বড় ধরনের ফাটল ধরেনি, সেটির একমাত্র কৃতিত্ব বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুযোগ্য, বিচক্ষণ এবং ধৈর্যশীল নেতৃত্বের। তিনি শুধু নিজের দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, বরং দেশের গণতন্ত্রকামী অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝেও এক অনন্য ঐক্যের সেতু নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা যে, দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থেকেও একজন নেতা কেবল ভিডিও কনফারেন্স এবং সাংগঠনিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি বিশাল রাজনৈতিক জোটকে অভিন্ন লক্ষ্যে স্থির রাখতে পেরেছেন। তিনি হয়ে উঠেছিলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের এক অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী সুতো, যা সকল মতের মানুষকে একই প্ল্যাটফর্মে গেঁথে রেখেছিল।

    তারেক রহমান ভৌগোলিক দূরত্বকে তুচ্ছ করে নিজের সাংগঠনিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে তৃণমূলের প্রান্তিক কর্মী পর্যন্ত সরাসরি সংযোগ রক্ষা করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে, প্রতিটি গ্রামে সংগঠনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রেখেছেন। ফ্যাসিস্ট শক্তি তাকে দেশের মাটি থেকে দূরে সরিয়ে রাখলেও জনগণের হৃৎস্পন্দন থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি, বরং দিন দিন তিনি হয়ে উঠেছেন শোষিত মানুষের ভরসাস্থল। বিএনপিকে খণ্ড-বিখণ্ড করার সকল চক্রান্ত তিনি অত্যন্ত দৃঢ় হাতে দমন করেছেন, যা তার সাংগঠনিক পরিপক্বতারই প্রমাণ দেয়। তার এই নেতৃত্ব কেবল বিএনপিকে রক্ষা করেনি, বরং দেশের সামগ্রিক গণতন্ত্রকামী শক্তিকে একটি মেরুদণ্ড প্রদান করেছে।

    আজ দেশ এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছে। দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশ যখন স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত হয়ে নিঃশ্বাস নিতে শুরু করেছে, এমন এক সন্ধিক্ষণে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে বাঁচার আশার সঞ্চার করেছে। তিনি কেবল একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে ফিরছেন না, বরং তিনি ফিরছেন এক নতুন ও আধুনিক বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ রূপকল্প নিয়ে। তার নির্দেশিত ঐতিহাসিক ‘৩১ দফা’ আজ সারা দেশে এক গণসনদে পরিণত হয়েছে। এই ৩১ দফার মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষের সামনে এমন এক রাষ্ট্রের নকশা উপস্থাপন করেছেন, যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং নাগরিক অধিকার হবে প্রশ্নাতীত।

    এই রূপকল্প কেবল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার নয়, বরং এটি রাষ্ট্র সংস্কারের এক বৈপ্লবিক পরিকল্পনা। সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের যে স্বপ্ন তারেক রহমান দেখিয়েছেন, তা দেশের তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ— সকলের মধ্যেই উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

    নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সরকার গঠন ও দেশ পরিচালনায় তারেক রহমানের মেধা, দূরদর্শিতা এবং আধুনিক চিন্তাধারা এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলেই আজ সর্বস্তরের মানুষ গভীরভাবে বিশ্বাস করে। দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রবাসজীবনে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন কাছ থেকে দেখেছেন, যা তাকে একজন বিশ্বমানের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে গড়ে তুলেছে। দেশের মানুষ আজ মনে করে, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিকভাবেই সমৃদ্ধ হবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এক অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের মাঠে লড়াই থেকে শুরু করে রাষ্ট্রসংস্কারের প্রতিটি ধাপে তার উপস্থিতি আজ অপরিহার্য।

    তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের সুবাতাস বয়ে আনবে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিভেদ ও প্রতিহিংসার রাজনীতির বিপরীতে তিনি এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমঝোতামূলক রাজনীতির পথ দেখাচ্ছেন। সেই আশাবাদ আজ কোটি কোটি মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ড্রইং রুম পর্যন্ত আজ একটাই আলোচনা— তারেক রহমান ফিরছেন। এই ফেরা মানেই হলো অন্ধকারের অবসান, এই ফেরা মানেই হলো ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। সাধারণ মানুষের এই আকাশচুম্বী প্রত্যাশাকে ধারণ করেই তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের জাতীয় নেতার আসনে আসীন হয়েছেন।

    তারেক রহমানের এই ঘরে ফেরা কেবল একজন ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের লুণ্ঠিত মানচিত্রের পুনরুত্থান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তার এই পদধ্বনি নেতাকর্মীদের মাঝে যেমন নবপ্রাণের জোয়ার এনেছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মাঝেও এক গভীর স্বস্তি বয়ে এনেছে। কারণ বাংলাদেশের মানুষ আজ স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছে যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই কেবল আসন্ন নির্বাচনে এক বিশাল বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব এবং তার স্বপ্নের হাত ধরেই দেশ এক সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং তা এক নতুন বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সূর্যোদয়ের শুভ সূচনা। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেখেছিলেন এবং যা বাস্তবায়নে বেগম খালেদা জিয়া আজীবন সংগ্রাম করেছেন, সেই স্বপ্নের পূর্ণতা দিতেই আজ তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন।

    *লেখক : মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)*

    সূত্রঃ বাসস

  • বড়দিন ও থার্টি-ফার্স্ট নাইট ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    বড়দিন ও থার্টি-ফার্স্ট নাইট ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, বড়দিন ও থার্টি-ফার্স্ট নাইট ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

    আজ সোমবার আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৮তম সভা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ(জকসু) নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা জানান।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বড়দিন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ পবিত্র উৎসব যাতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে- সে বিষয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, বড়দিন ও থার্টি-ফার্স্ট নাইটে কোনো প্রকার আতশবাজি করা যাবে না। রাস্তা অবরোধ বা ব্লকেড করে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। প্রতিটি গির্জার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গুলশান, বনানীসহ রাজধানীর অভিজাত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

    উপদেষ্টা আরও বলেন, বড়দিন ও থার্টি-ফার্স্ট নাইটে রাজধানীতে যাতে ট্রাফিক চলাচল স্বাভাবিক থাকে-সে বিষয়ে ডিএমপি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাছাড়া এ উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নগরীতে টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে।

    সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার করা, গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই স্থাপনাসমূহের নিরাপত্তায় বিশেষায়িত বাহিনী স্ট্যান্ডবাই রাখা, ঢাকা মহানগরীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম বৃদ্ধি করা, পুলিশ সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে তা নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা ও নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা।

    সূত্রঃ বাসস

  • দারফুরের বাজারে ড্রোন হামলায় নিহত ১০

    দারফুরের বাজারে ড্রোন হামলায় নিহত ১০

    সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের একটি ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে রোববার উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন।

    তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে সর্ম্পকে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

    এই হামলার মধ্যেই দেশের অন্য অংশে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে দক্ষিণের অবরুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষকবলিত শহর কাদুগলি থেকে রোববার মানবিক সহায়তা কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র‌যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত কয়েক দশ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, আর এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্য সংকট।

    উত্তর দারফুর এমার্জেন্সি রুমস কাউন্সিল সুদান জুড়ে সহায়তা সমন্বয়কারী শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর একটি।

    কাউন্সিল জানিয়েছে, শনিবার আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত মালহা শহরের আল-হাররা বাজারে ড্রোন হামলা হয়। এতে ১০ জন নিহত হয়।

    কাউন্সিলটি আরও জানায়, হামলায় দোকানপাটে আগুন ধরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    তবে করা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের নাম তারা প্রকাশ করেনি।

    এ বিষয়ে সুদানের সেনাবাহিনী কিংবা আরএসএফ, কোনো পক্ষই তাৎক্ষণিকভাবে কোন মন্তব্য করেনি।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    বর্তমানে যুদ্ধের প্রধান কেন্দ্র দক্ষিণ করদোফান।

    রাজ্যের রাজধানী কাদুগলিতে সংঘর্ষ বেড়েছে।

    গত সপ্তাহে সেখানে একটি ড্রোন হামলায় শহর ছাড়তে চেষ্টা করা আট জন নিহত হয়।

    কাদুগলিতে কাজ করা একটি মানবিক সংস্থার সূত্র এএফপিকে জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে রোববার শহরটি থেকে সব সহায়তাকর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    ওই সূত্র আরও জানায়, জাতিসংঘ কাদুগলি থেকে তাদের লজিস্টিকস হাব সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার গ্রহণ করার পর এই পদক্ষেপ আসে।

    তবে কর্মীরা কোথায় গেছেন, সূত্রটি তা জানায়নি।

    হাম ও রোগের সংকট

    যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কাদুগলি ও আশপাশের ডিলিং শহর আধা-সামরিক বাহিনীর অবরোধে রয়েছে।

    গত সপ্তাহে আরএসএফ কাদুগলি-ডিলিং সড়কের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অঞ্চল ব্রনো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে।

    অক্টোবরে দারফুর অঞ্চলের শেষ সেনা ঘাঁটি এল-ফাশের দখলের পর আরএসএফ তাদের নজর দিয়েছে সম্পদ সমৃদ্ধ করদোফানে, এই অঞ্চলটি সেনা-নিয়ন্ত্রিত উত্তর ও পূর্বাঞ্চলকে পশ্চিমের আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত দারফুরের সঙ্গে যুক্ত করা একটি কৌশলগত সংযোগস্থল।

    দারফুরের মতো করদোফানেও বহু অ-সুদানি আরব জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। এল-ফাশের পতনের পর সহিংসতার বড় অংশ জাতিগতভাবে লক্ষ্য ভিত্তিক ছিল বলে জানা গেছে।

    করদোফানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন, আর গত মাসে জাতিসংঘ কাদুগলিতে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য মতে, অক্টোবরের শেষ দিক থেকে এ অঞ্চল ছেড়ে পালিয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ।

    এদিকে এএফপি’র সংগ্রহ করা তথ্য থেকে জানা যায় যে এদের মধ্যে অনেকেই আশপাশের জঙ্গলে খাবার খুঁজে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।

    চলমান সংঘাতে কার্যত সুদান দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

    সহিংসতায় বিপর্যস্ত দেশটির উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল রয়েছে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, আর দারফুরের পাঁচটি রাজ্যের রাজধানীসহ দক্ষিণের কিছু অংশ আরএসএফ ও তাদের মিত্রদের দখলে রয়েছে।

    এদিকে, চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) রোববার জানায়, দারফুরের চারটি রাজ্যের মধ্যে তিনটিতে হাম রোগ দ্রুত ছড়াচ্ছে।

    সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ‘কেন্দ্রীয়, দক্ষিণ ও পশ্চিম দারফুরে প্রতিরোধযোগ্য হাম রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এমএসএফ দলগুলো ১ হাজার ৩০০টির বেশি রোগীর চিকিৎসা দিয়েছে। টিকা পরিবহন, অনুমোদন ও সমন্বয়ে বিলম্বের কারণে বহু শিশু এই রোগ থেকে সুরক্ষাবিহীন রয়ে যাচ্ছে।’

    সূত্রঃ বাসস

  • প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক

    প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক

    দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বাজেট ব্যয় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আজ একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে দেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক সূচকগুলো পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় মূল্যস্ফীতি, মজুরি প্রবৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, চলতি হিসাব, প্রবাস আয়, আমদানি ও শিল্পখাতে ঋণপত্র খোলার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে জানানো হয়, ১২ মাসের গড় হিসাবে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। সর্বশেষ তথ্যে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে, যা জুন ২০২৫-এর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে। সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও কৃচ্ছ সাধনের ফলে ২০২৬ সালের জুনে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

    মজুরি প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বৈঠকে জানানো হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির হারের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৮ দশমিক ২৯ ও ৮ দশমিক ০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে আগের বছরগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে যে প্রকৃত আয় কমে গিয়েছিল, চলতি অর্থবছরে সেখান থেকে ধীরে ধীরে উত্তরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    কৃষি খাত নিয়ে আলোচনায় জানানো হয়, যথাযথ প্রণোদনা ও ব্যবস্থাপনার ফলে গত অর্থবছরে বোরো ধানে ভালো ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের ফলনও সন্তোষজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমন ধানের উৎপাদন ১৬০ দশমিক ৯৫ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। বাকি ফসল কর্তন শেষ হলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, আউশ ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম হলেও আগের অর্থবছরের তুলনায় মোট উৎপাদন ৭ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়েছে।

    বৈঠকে জানানো হয়, দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে যে ভারসাম্যহীনতা ছিল, তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।

    আর্থিক ও বৈদেশিক খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে বলা হয়, ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। বিনিময় হার স্থিতিশীল হওয়া, প্রবাস আয় বৃদ্ধি এবং সুদের হার বৃদ্ধির ফলে রিজার্ভ আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    চলতি হিসাব প্রসঙ্গে জানানো হয়, টানা কয়েক বছর ঘাটতির পর এ খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে চলতি হিসাব ঘাটতি নেমে এসেছে মাত্র ১৩৯ মিলিয়ন ডলারে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর সময়ে ঘাটতি ছিল ৭৪৯ মিলিয়ন ডলার।

    প্রবাস আয় নিয়েও ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরা হয়। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ৫ লাখ কর্মীর বৈদেশিক নিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ৯৭ হাজার। একই সময়ে প্রবাস আয় এসেছে ১৩ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।

    আমদানি খাত নিয়ে আলোচনায় জানানো হয়, উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে আমদানির ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে আমদানি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ঋণাত্মক।

    শিল্পখাতে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করার ফলে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে।

    সূত্রঃ বাসস

  • আজ ‘ভোটের গাড়ি’র প্রচারণা শুরু

    আজ ‘ভোটের গাড়ি’র প্রচারণা শুরু

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে ভোটারদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে ‘ভোটের গাড়ি’র প্রচারণা আজ বিকেলে শুরু হচ্ছে ।

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘ভোটের গাড়ি’র উদ্বোধন করবেন।

    ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে ভোটের গাড়ি দেশের ৬৪ জেলা ও তিন শতাধিক উপজেলা পরিভ্রমণ করবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

    সূত্রঃ বাসস