Author: আন্তর্জাতিক ডেক্স

  • ইসরাইলের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

    ইসরাইলের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

    ইসরাইলের একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ইরানের রাজধানীর কাছে ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান।  তেহরান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ইরানের রাজধানীর কাছে ভূপাতিত করা হয়েছে।

    রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ইরানের ভারামিন শহরের গভর্নর হোসেইন আব্বাসি আজ বুধবার সকালে এই তথ্য জানিয়েছেন।

    ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, গভর্নর হোসেইন আব্বাসি বলেছেন, দেশটির সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরাইলের এই সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করে।

    গত শুক্রবার ভোরে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়।  এরপর থেকে এ নিয়ে ইসরাইলের মোট পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান।

    এফ-৩৫ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান। এটি রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। এর একাধিক সংস্করণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এটি ব্যবহার করে।

  • যুক্তরাষ্ট্র হামলার শিকার হলে ‘নজিরবিহীন’ পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    যুক্তরাষ্ট্র হামলার শিকার হলে ‘নজিরবিহীন’ পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    ইরানে ভয়াবহ ইসরাইলি হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে তেহরান। পালটা হামলা চালিয়েছে ইসরাইলে। আর এই অবস্থায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণ চালালে তার পরিণতি কী হতে পারে সে ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুমকি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী এমন প্রতিশোধ নেবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি।

    ওয়াশিংটন ডিসিতে এক অভূতপূর্ব সামরিক কুচকাওয়াজে সভাপতিত্ব করার কয়েক ঘণ্টা পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, ইরানের ওপর ইসরাইলের সর্বশেষ আক্রমণের সঙ্গে আমেরিকার কোনো সংযোগ নেই এবং সংঘাতের অবসান ঘটাতে তার প্রশাসন দুদেশের মধ্যে শান্তিচুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী।

    তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালালে কী হতে পারে সে ব্যাপারে ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘যদি ইরান আমাদের ওপর কোনো আক্রমণ করে, তা সে যে পরিসরেই হোক না কেন; এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ শক্তি তাদের ওপর এমন স্তরে নেমে আসবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি। তবে, আমরা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে চায়। ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে একটি চুক্তি করতে চায়।’

    তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শাস্তির কথা বললেও, উল্টো চিত্র ইসরাইল-ইরানে। দুদেশই এরইমধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইল ইরানের পরমাণু স্থাপনায় আঘাত করা ও দেশটির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে হত্যা করার পর ইরানও পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

  • ইসরায়েলকে ‘বেদনাদায়ক’ জবাব দিল ইরান

    ইসরায়েলকে ‘বেদনাদায়ক’ জবাব দিল ইরান

     

    মোঃ নাসরুল্লাহ সাকিব:

    শুক্রবার রাতে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় শনিবার (১৪ জুন) ইরান শক্তিশালী ও ‘বেদনাদায়ক’ জবাব দিয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ড (IRGC) একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়।

    ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও আল-জাজিরার বরাতে জানা গেছে, রামাত দাভিদ বিমানঘাঁটি এবং গোলান হাইটসের একটি রাডার ঘাঁটি এই হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল। যদিও ইসরায়েল দাবি করেছে, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে, তবুও সামান্য ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছে প্রতিরক্ষা বাহিনী।

    ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলাকে “শহীদদের রক্তের বদলা” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তেহরান বলছে, ইসরায়েলের আগ্রাসন ছিল ‘চরম বেপরোয়া একটি পদক্ষেপ’, যার চূড়ান্ত জবাব দিতে দেশ প্রস্তুত ছিল। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও স্পষ্ট করে বলেছেন, “ইসরায়েলের প্রতি কোনো দয়া দেখানো হবে না। এই অপরাধের পরিণাম তাদের ভোগ করতেই হবে।”

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই পাল্টা হামলা তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেন, “বর্তমান সংঘর্ষ পুরো অঞ্চলে অশান্তি ডেকে আনতে পারে। পরিস্থিতি যেন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ‘বেদনাদায়ক জবাব’ শুধু ইসরায়েলকেই নয়, বরং গোটা বিশ্বকে মনে করিয়ে দিয়েছে-মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষ কখনও সীমিত থাকে না। ইরান আগেই জানিয়েছিল, তারা ছয়শ’রও বেশি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল একযোগে ছোঁড়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। সেই ঘোষণার বাস্তব প্রয়োগ দেখা গেল এবারকার পাল্টা জবাবে।

  • ইসরাইলের বিরুদ্ধে বড় সামরিক পদক্ষেপ চান ইরানিরা, কুম শহরে বিক্ষোভ

    ইসরাইলের বিরুদ্ধে বড় সামরিক পদক্ষেপ চান ইরানিরা, কুম শহরে বিক্ষোভ

    বিভিন্ন শহরে ইসরাইলের প্রাণঘাতী হামলার পর ইরানের কুম শহরে শত শত বিক্ষোভকারী জমায়েত হয়ে বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে বিক্ষোভ করেছেন ইরানিরা।

    এক্সে প্রকাশিত ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কুম শহরের জামকারান মসজিদে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে ইসরাইলবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কুম শহর ইরানের অন্যতম পবিত্র নগরী।

    শুক্রবার ভোরে চালানো ইসরাইলি হামলায় উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী, নারী, শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

    বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় ইরানের ছয়জন পরমাণুবিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। তারা হলেন—আব্দুল্লাহ মিনৌচেহর, আহমাদ রেজা জলফাঘারি, সায়েদ আমির হোসেন ফাকহি, মোতলাবিজাদেহ, ফেরেদুন আব্বাসি এবং মোহাম্মদ মেহদি তেহরানচি।

    ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘অপারেশ রাইজিং লায়ন’-এর অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। মূলত ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সক্ষমতা ধ্বংসেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল বিভিন্ন পারমাণবিক কেন্দ্র এবং বিজ্ঞানীরা। এ ছাড়া, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদর দপ্তরেও হামলা চালানো হয়।

    ছয় বিজ্ঞানী ছাড়াও ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ তিন সামরিক কমান্ডার। নিহতরা হলেন—সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাঘেরি; ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার হোসেইন সালামি এবং খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম আলী রশিদ।

    কয়েক দিন ধরেই ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। খুব শিগগিরই বড়সড় কোনো হামলা হবে আশঙ্কা করা করছিলেন বিশ্লেষকেরা। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোরে সেই আশঙ্কাই বাস্তবায়িত করল ইসরাইলি সেনাবাহিনী আইডিএফ। ইরান জুড়ে পাঁচ ধাপে হামলা চালিয়েছে তারা। অন্তত আটটি শহর লক্ষ্য করে শত শত হামলা চালানো হয়েছে।

  • পবিত্র হজ আজ লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাত ময়দান

    পবিত্র হজ আজ লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাত ময়দান

    আজ পবিত্র হজ। আরাফাতের ময়দানে থাকার দিন।

    ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’ অর্থাৎ ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার’-এ ধ্বনিতে আজ মুখর থাকবে আরাফাতের ময়দান।

    মিনায় মুসল্লিদের জড়ো হওয়ার মধ্য দিয়ে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ৮ জিলহজ বুধবার সকাল থেকে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও মঙ্গলবার রাতেই অধিকাংশ হাজি মিনার তাঁবুতে পৌঁছে যান।

    হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় সৌদি মুয়াল্লিমরা আগের রাত থেকেই হজযাত্রীদের তাঁবুর শহর মিনায় নেওয়া শুরু করেন। হজযাত্রীরা মঙ্গলবার এশার পর মক্কার নিজ নিজ আবাসন থেকে ইহরাম বেঁধে মিনায় রওয়ানা হন।

    মিনায় যাত্রার মধ্য দিয়ে হজ পালনের সূচনা হয়, যা শেষ হবে ১২ জিলহজ শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে। অন্যান্য দেশের হাজিদের সঙ্গে এবার বাংলাদেশের ৮৫ হাজার ১৬৪ হাজিও বুধবার সারা দিন মিনার তাঁবুতে অবস্থান করেছেন। বাংলাদেশি হাজিদের সেবায় মিনায় দায়িত্ব পালন করেছে ১৮টি টিম।

    তাঁবুর এই শহর এদিন মুখরিত হয়ে উঠেছিল ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে। মুসল্লিরা সারা দিন ও রাত মিনায় কাটান ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে। আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় মশগুল ছিলেন জিকির ও তালবিয়াতে। মিনায় জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং পরদিন ফজরসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় সুন্নাত এবং সেখানে রাতযাপন করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।

    আজ (৯ জিলহজ) সূর্যোদয়ের পর আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা থাকলেও ভিড় এড়াতে আগের রাতেই হজযাত্রীদের নেওয়া শুরু করেন মুয়াল্লিমরা। মিনা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত আরাফাতের ময়দান। মহান আল্লাহর কাছে হাজিরা দিয়ে আত্মশুদ্ধি, মাগফিরাত ও রহমত চাইতে আসা মুসলিমরা আজ এখানে সমবেত হবেন, যাকে হজের মূল অনুষ্ঠান বলা হয়। তিনদিকে পাহাড়ঘেরা প্রায় চার বর্গমাইল আয়তনের এ বিশাল সমতল মাঠের একপ্রান্তে জাবালে রহমত। অর্থাৎ রহমতের পাহাড়। ১৪শ বছর আগে এখানেই শেষ নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) দিয়েছিলেন তার বিদায় হজের ভাষণ।

    এই আরাফাতে উপস্থিত না হলে হজ পূর্ণ হয় না। তাই হজে এসে যারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে এখানে আজ আনা হবে। এখানে মসজিদে নামিরা থেকে এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদুল হারামের প্রবীণ ইমাম শায়খ সালেহ বিন আবদুল্লাহ হুমাইদ। একই সঙ্গে মসজিদে নামিরাতে নামাজও পড়াবেন তিনি।

    তার প্রদত্ত সেই খুতবার বাংলা অনুবাদ করবেন সৌদি আরবে অধ্যয়নরত চার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ড. খলীলুর রহমান, আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান মাক্কী, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব। তারা সবাই মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন। বাংলা ছাড়াও ২০টি ভাষায় অনুবাদ করা হবে হজের খুতবা।

  • ভারতের নিয়ন্ত্রিত নদীর পানি পাকিস্তান পাবে না: নরেন্দ্র মোদি

    ভারতের নিয়ন্ত্রিত নদীর পানি পাকিস্তান পাবে না: নরেন্দ্র মোদি

    কাশ্মীরে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার পর বহু ঘটনা ঘটে গেছে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে। এবার নতুন করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ভারতের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, এমন কোনো নদীর পানি পাকিস্তান পাবে না।

    ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় ভারত থেকে উৎপন্ন তিনটি নদীর পানি পাকিস্তানে প্রবাহিত হয় এবং এর ওপর নির্ভর করে দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমি। গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর হওয়া ভয়াবহ হামলার পর এ চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয় ভারত।

    ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানের সমর্থনে এ হামলা চালানো হয়েছে, যদিও ইসলামাবাদ তা সরাসরি অস্বীকার করেছে। এরপর দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাকর সামরিক সংঘাতের সূচনা হয়, যা অবশেষে ১০ মে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা প্রশমিত হয়।

    রাজস্থানে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে চরম মূল্য দিতে হবে—এ মূল্য দেবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, দেবে তাদের অর্থনীতি।

    যদিও পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি দাবি করেছেন, সিন্ধু চুক্তি স্থগিতের ফলে তৎক্ষণাৎ কোনো বড় প্রভাব পড়বে না, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশটির কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

    ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ডাচ সংবাদমাধ্যম এনওএসকে বলেন, সামরিক অভিযান এখনও চলছে। একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলা হয়েছে—যদি আরেকটি ২২ এপ্রিলের মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে জবাব দেওয়া হবে। যারা সন্ত্রাসে জড়িত, তাদের উপরই আঘাত আসবে।

    তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা যদি পাকিস্তানের মাটিতে থাকে, তাহলে আমরা তাদের সেখানেই আঘাত করব।

    মোদি ও জয়শঙ্করের বক্তব্যের পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।

    প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বৈরিতায় ভরা। তারা তিনবার যুদ্ধ করেছে, যার মধ্যে দুটি হয়েছে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে। ভারত বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তান কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দেয়, যদিও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে আসছে।

    সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে—যেমন সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ, স্থল সীমান্ত অচল এবং অধিকাংশ ভিসা স্থগিত রাখা। পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও উত্তেজনার আঁচ এখনো বিদ্যমান। খবর রয়টার্সের।

  • হামাস ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে নয়জন জিম্মিকে মুক্তি দিতে সম্মত

    হামাস ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে নয়জন জিম্মিকে মুক্তি দিতে সম্মত

    এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বরাতে বিবিসি একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, হামাস ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে নয়জন জিম্মিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে, পাশাপাশি ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।

    ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিদিন গাজায় ৪০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে পারবে এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়া যাবে চিকিৎসার জন্য। বিররীতে, ইসরায়েল চাইছে বাকি সব জিম্মির জীবিত থাকার প্রমাণ ও তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

    এই নতুন যুদ্ধবিরতির আলোচনা দোহায় কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হয়েছে স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ মে) বিকেলে।

    ইসরায়েল এখনো এই প্রস্তাবের ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে আলোচনা শুরুর আগেই তারা জানিয়েছিল যে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না এবং সম্পূর্ণ যুদ্ধ বন্ধে রাজি নয়।

    শনিবারই ইসরায়েল একটি নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয়, যার নাম দিয়েছে ‘অপারেশন গিডিয়ান চেরিয়েটস’। এটি গাজায় সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

    উদ্ধারকর্মীরা জানাচ্ছেন,  বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে মারা গেছেন  গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে হাসপাতাল ও উদ্বাস্তুশিবিরে চালানো হামলায়।

    এই নতুন হামলার পর, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নতুন অভিযান গাজার জনগণ এবং বাকি জিম্মিদের জন্য ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

  • ৪০ রোহিঙ্গাকে ধরে নিয়ে আন্দামান সাগরে ফেলে দিল ভারত, তদন্তে জাতিসংঘ

    ৪০ রোহিঙ্গাকে ধরে নিয়ে আন্দামান সাগরে ফেলে দিল ভারত, তদন্তে জাতিসংঘ

    জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইসিএইচআর) অভিযোগ করেছে- ভারতীয় নৌবাহিনী গত সপ্তাহে তাদের একটি জাহাজ থেকে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমার উপকূলের কাছাকাছি আন্দামান সাগরে ফেলে দেয়।

    ওএইসিএইচআর বৃহস্পতিবার (১৫ মে) এক বিবৃতিতে জানায়, অন্তত ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নয়াদিল্লিতে আটক করে ভারতীয় নৌবাহিনী মিয়ানমারের সামুদ্রিক সীমানার কাছাকাছি সমুদ্রে ফেলে দেয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ওই শরণার্থীদের মধ্যে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরাও ছিলেন। তারা সাঁতরে তীরে পৌঁছালেও বর্তমানে তারা মিয়ানমারে কোথায় আছে, তা জানা যায়নি।

    শুক্রবার পাঁচজন রোহিঙ্গা শরণার্থী, সাগরে ফেলে দেওয়া শরণার্থীদের পরিবারের সদস্য এবং তাদের আইনজীবী একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে জানায়, তাদের পরিবারের সদস্যরা ৬ মে দিল্লিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হওয়া ওই দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

    তারা বলেন, ওই ৪০ জনের মধ্যে ১৫ জন খ্রিস্টানও ছিলেন। তাদের একটি বিমানে করে নিয়ে যাওয়ার পর ৮ মে ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্যরা তাদের লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেয়।

    রোহিঙ্গাদের পক্ষের আইনজীবী দিলাওয়ার হুসেন জানান, শরণার্থী পরিবারের সদস্যরা ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে একটি আবেদন দায়ের করেছেন যাতে ভারত সরকার তাদের আবার নয়াদিল্লিতে ফিরিয়ে আনে।

    ওএইসিএইচআর বলছে, তারা এক রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিজের ভাইকে নয়াদিল্লিতে করা ফোনকলের একটি রেকর্ডিং পর্যালোচনা করেছে। ওই রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, কলকারী বলছেন, গ্রুপের কয়েকজন সদস্যকে ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্যরা মারধর করেছে।

    এ বিষয়ে ভারতের নৌবাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

    ওএইসিএইচআর এর বিবৃতিতে ঘটনাটিকে অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য কাজ বলে উল্লেখ করে এ ঘটনায তদন্তের জন্য জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করেছে জানানো হয়। সংস্থাটি ভারত সরকারকে আহ্বান জানায়, ভারত যেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি অমানবিক ও প্রাণঘাতী আচরণ থেকে বিরত থাকে এবং মিয়ানমারের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে তাদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো বন্ধ করে।

    রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বসবাসরত আনুমানিক ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর মধ্যে অন্তত ২২ হাজার ৫০০ জন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাওএইসিএইচআর-এর নথিভুক্ত।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা নির্যাতন ও হামলার শিকার হয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গাদের ভারত থেকে বিতাড়নের দাবি জানিয়ে আসছে।

  • পাকিস্তানের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ভারতীয় নারী ব্লগার গ্রেপ্তার

    পাকিস্তানের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ভারতীয় নারী ব্লগার গ্রেপ্তার

    ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের হরিয়ানা রাজ্য পুলিশ।

    নারীর নাম জয়তী রানী (৩৩)। পর্যটনবিষয়ক ব্লগ করেন তিনি। শুক্রবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, ইউটিউবে জয়তী রানীর ৩ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি। দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের এক কর্মকর্তাকে ‘সংবেদনশীল তথ্য’ দেওয়ার পর তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

    জয়তী রানীকে হরিয়ানার হিসার জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর শনিবার তাঁকে আদালতে তোলে পুলিশ। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। জয়তীকে ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

    পুলিশ জানিয়েছে, জয়তী রানীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আনা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং তাঁর বিভিন্ন  কনটেন্ট এর মাধ্যমে পাকিস্তানের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরেছিলেন।

    গত মার্চ ও এপ্রিলে নিজের পাকিস্তান ভ্রমণের ভিডিও শেয়ার করেছিলেন জয়তী।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জয়তী জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে পর্যটন ভিসার জন্য পাকিস্তান হাইকমিশনে গিয়েছিলেন তিনি।

    তখন দিল্লির পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তা এহসান–উর–রহিমের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। পরে তিনি ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন জয়তী।

    জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ বলেছে, পাকিস্তানে গিয়ে এহসান–উর রহমানের প্ররোচনায় আলী এহওয়ান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেন জয়তী। তিনি আবার জয়তীকে পাকিস্তানের দুজন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করান। সন্দেহ এড়াতে তাঁদের একজনের নাম নিজের মুঠোফোনে ভিন্ন নামে সংরক্ষণ করেন জয়তী। পরে ওই তিনজনের কাছে ভারতসংক্রান্ত ‘সংবেদনশীল তথ্য’ সরবরাহ করেন তিনি।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ মে এহসান-উর-রহিমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ভারত সরকার। তাঁর বিরুদ্ধেও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়। এরপর তাঁকে অবিলম্বে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

  • মধ্যরাতে ইসরাইলি বিমান হামলায় ৬২ জন নিহত

    মধ্যরাতে ইসরাইলি বিমান হামলায় ৬২ জন নিহত

    ফিলিস্তিনের গাজায় মধ্যরাতে ১২টি ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই দক্ষিণের শহর খান ইউনিসের।

    হামাস পরিচালিত সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বিবিসিকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর দুইটার দিকে খান ইউনিস থেকে ৫৬ জন, উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া থেকে চারজন এবং মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। নিহতদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু ছিল।

    মুখপাত্র আরও জানান, খান ইউনিসের ১৩ সদস্যের সামুর পরিবারের নাম নাগরিক নিবন্ধন থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়েছে।

    এদিকে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালানোর পাশাপাশি উত্তরে বেসামরিক নাগরিকদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল।

    ইতোমধ্যেই আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গাজা সিটির বাসিন্দাদের ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ‘তীব্র হামলা’ শুরু হওয়ার আগেই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য চলে যেতে বলা হয়েছে।

    বিশেষভাবে ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, আল-শিফা হাসপাতাল এবং তিনটি প্রাক্তন স্কুল খালি করার কথা বলেছে ইসরাইল এবং তারা অভিযোগ করেছে, ভবনগুলো হামাস তাদের কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করছে।

    তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, সেখানে হাজার হাজার বেসামরিক লোক আশ্রয় নিয়েছে এবং এই এলাকাগুলো থেকে তাদের সরিয়ে নিতে সময় লাগবে। এতে বিপুল সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।

  • ভারতের ১২টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি পাকিস্তানের

    ভারতের ১২টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি পাকিস্তানের

    ভারত ফের সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পাকিস্তান। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, ভারতীয় বাহিনী একাধিক জায়গায় হারোপ ড্রোন পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ মে) পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডনের লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেছেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে এবং এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ১২টি হারোপ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

    এ ছাড়া তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় ড্রোনের কারণে চারজন সেনা আহত হয়েছে। লাহোর, এটক, গুজরানওয়ালা, চাকওয়াল, রাওয়ালপিন্ডি, বাওয়ালপুড়, মিয়ানো, চর এবং করাচির কাছে এসব ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তবে এসব ড্রোনের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভারত বুধবার কিছু শহরে দুই থেকে তিনবার হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে এবং এখনও ভারতের আক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

    পাকিস্তানের বেসরকারি চ্যানেল জিও টিভিতে ‘আজ শাহজাইব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খাজা আসিফ বলেন, ভারত কিছু শহরকে দুই থেকে তিনবার টার্গেট করার চেষ্টা করেছে, অন্তত রাডারের ওপর দিয়ে, যাতে প্রয়োজন হলে এই শহরগুলোয় হামলা চালানো যায়।

  • পাকিস্তানের ধর্মীয় শিক্ষাবিদ ও সাবেক সিনেটর অধ্যাপক সাজিদ মির আর নেই

    পাকিস্তানের ধর্মীয় শিক্ষাবিদ ও সাবেক সিনেটর অধ্যাপক সাজিদ মির আর নেই

    লাহোরে শনিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন পাকিস্তানের প্রখ্যাত ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাবিদ ও সাবেক সিনেটর অধ্যাপক সাজিদ মির। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। তার স্পাইন সার্জারি এবং হার্ট বাইপাস অস্ত্রোপচার হয়েছিল, যার পর থেকে তিনি শয্যাশায়ী অবস্থায় ছিলেন। শনিবার ভোররাতে লাহোরের একটি স্থানীয় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

    সামা টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৩৮ সালের ২ অক্টোবর পাঞ্জাবের সিয়ালকোটে এক ধর্মভীরু কাশ্মিরি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন প্রফেসর সাজিদ মির।  প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম মির সিয়ালকোটির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছিলেন তিনি।  ১৯৬০ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স এবং ১৯৬৯ সালে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

    বিদেশে শিক্ষকতা জীবনের সূচনা হয় নাইজেরিয়ায়।  ১৯৮৫ সালে পাকিস্তানে ফিরে আসার পর তিনি সক্রিয়ভাবে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের টিকিটে প্রথমবার সিনেটর নির্বাচিত হন। পরে আরও কয়েকবার সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করেন।

    দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সিনেটের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি সিনেটের নিয়ম-নীতি, সরকারি প্রতিশ্রুতি, প্রবাসী পাকিস্তানি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত কমিটিতেও ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

    ২০০৯ সালে আলেম ও টেকনোক্র্যাটদের জন্য সংরক্ষিত আসনে তিনি পুনরায় সিনেটর নির্বাচিত হন।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সপ্তমবারের মতো কেন্দ্রীয় জমিয়ত আহলে হাদীস পাকিস্তানের আমির নির্বাচিত হন — যা দলীয় নেতৃত্বে তার প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ।

    অধ্যাপক মির সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ধর্মীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি পাকিস্তানের ধর্মীয় কূটনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

    তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিএমএল-এন প্রধান নওয়াজ শরিফ গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি ইসলাম ও পাকিস্তানের জন্য অমূল্য অবদান রেখেছেন, তিনি ছিলেন একজন নির্ভীক ও নিষ্ঠাবান নেতা।

  • যুক্তরাজ্যে পাকিস্তান হাইকমিশনে হামলা, যা বললেন শাহবাজ

    যুক্তরাজ্যে পাকিস্তান হাইকমিশনে হামলা, যা বললেন শাহবাজ

    সম্প্রতি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পহেলগাঁওয়ে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ২৬ পর্যটক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। যার জেরে প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। যার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্যেও।

    কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যেই সম্প্রতি হামলার শিকার হয়েছে লন্ডনে অবস্থিত পাকিস্তানি হাইকমিশন। হামলার ফলে ভবনের জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং সাদা দেয়ালে ও নামফলকে গেরুয়া রঙের পেইন্ট ছিটিয়ে দেওয়া হয়।

    লন্ডনে ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যার একদিন আগে শত শত ভারতীয় বিক্ষোভকারী পাকিস্তানি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ করে। ওই বিক্ষোভ চলাকালে দুজনকে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারও করা হয়।

    এদিকে ভারতীয় বিক্ষোভকারীদের জবাবে পাকিস্তানের সমর্থনে পাল্টা বিক্ষোভকারীরাও ওই সময় উপস্থিত ছিলেন। পাল্টা বিক্ষোভকারীরা কাশ্মীরে ভারতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

    এছাড়া পাকিস্তানের হাতে ২০১৯ সালে আটক ভারতীয় বৈমানিক অভিনন্দন বর্তমানের ছবি এবং ‘চা ও কাপ’-এর প্রতীকী চিত্রও প্রদর্শিত হয়। এই চিত্র মূলত পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ‘অপারেশন সুইফট রিটোর্ট’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

    ব্রিটেনে ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কমিউনিটি মূলত দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে বিভক্ত। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যু, সাম্প্রদায়িক সংঘাত নিয়ে। এছাড়া দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা যখন বাড়ে, তখন ব্রিটেনে বসবাসকারী দুই কমিউনিটির মধ্যেও তা ছায়া ফেলে।

    লন্ডনের এই সাম্প্রতিক ঘটনা দেখিয়েছে যে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েন কেবল উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং তা বিশ্বব্যাপী প্রবাসী কমিউনিটিগুলোর মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

    এই উত্তেজনা সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে যেখানে দুপক্ষই নিজেদের বক্তব্য প্রকাশে রাজপথে নেমে আসে এবং তা কখনো কখনো সহিংসতায় রূপ নেয়।

    এদিকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী লন্ডনে পাকিস্তান দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ১৯৬১ সালের ‘Vienna Convention on Diplomatic Relations’ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের দায়িত্ব ছিল পাকিস্তান হাইকমিশনের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    কনভেনশনের ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,  ‘The receiving State is under a special duty to take all appropriate steps to protect the premises of the mission against any intrusion or damage and to prevent any disturbance of the peace of the mission or impairment of its dignity.’

    অর্থাৎ, মিশনের সম্মান রক্ষা এবং যে কোনো অনধিকার প্রবেশ বা ক্ষতি প্রতিরোধ করা হোস্ট দেশ তথা যুক্তরাজ্যের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

    এদিকে হামলার নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ‘নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য’ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি এ ধরনের যেকোনো তদন্তে ইসলামাবাদের অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন।

    এর আগে শুক্রবার পাকিস্তানের সিনেট সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস করে পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসূত্র আছে দাবি করে ভারতের যে অভিযোগ তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিহিত করা হয়েছে।

  • ‘বহুমুখী বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ’ উদ্বোধন করে কিমের হুঁশিয়ারি

    ‘বহুমুখী বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ’ উদ্বোধন করে কিমের হুঁশিয়ারি

    নতুন একটি ‘বহুমুখী বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ’ উদ্বোধন করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং উন নিজেই শনিবার ওই যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন করেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাসকদল ওয়ার্কার্স পার্টির সচিব জো চুন রিয়ং এ বিষয়ে বলেন, ৫,০০০ টন ওজনের এই যুদ্ধজাহাজটি ‘সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র’ দ্বারা সজ্জিত এবং ‘৪০০-র কিছু বেশি দিন সময়ের মধ্যে আমাদের নিজস্ব শক্তি ও প্রযুক্তিতে সম্পূর্ণভাবে নির্মিত হয়েছে।

    কেসিএনএ-র বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে কিম বলেন, এই যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীতে হস্তান্তর করা হবে এবং আগামী বছরের শুরুতে এটি কার্যক্রমে প্রবেশ করবে।

    এদিকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কেআরটি’র ফুটেজে দেখা গেছে, কিম জং উন তার মেয়ে জু এ-র সঙ্গে ট্রেনে চড়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর শহর নামপোতে পৌঁছান।

    এ সময় কিমকে বলতে শোনা যায়, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রদর্শনের নতুন রেকর্ড গড়ে, তাহলে আমাদেরও কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতার নতুন রেকর্ড গড়তে হবে’।

    উত্তর কোরিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী কিমের বোন কিম ইয়ো জংকেও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

    কেসিএনএ জানায়, নামপোর সামরিক জাহাজ নির্মাণ কারখানায় হওয়া এই উদ্বোধন ‘মহান প্রেসিডেন্ট কিম জং উন-স্টাইলের নৌবহর নির্মাণ যুগের সূচনা’কে চিহ্নিত করে। ভাইস-অ্যাডমিরাল পাক কুয়াং সপ-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা বলা হয়।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাহাজটি ‘চোয়ে হিউন-শ্রেণিতে’ শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। যেটি মূলত জাপানবিরোধী বিপ্লবী যোদ্ধা চোয়ে হিউনের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

    রয়টার্স এর আগে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার নতুন শ্রেণির যুদ্ধজাহাজে ডজনখানেক ভার্টিক্যাল লঞ্চ সেল (উল্লম্ব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা) সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে উত্তর কোরিয়ার তৈরি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা যাবে।

    এ বিষয়ে কিম জং উন বলেন, শক্তিশালী প্রাথমিক আঘাতের সক্ষমতাই সবচেয়ে ‘বিশ্বাসযোগ্য যুদ্ধ প্রতিরোধক’ এবং এর পরিসরে কোনো সীমা থাকবে না।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুতর’। একই সঙ্গে তিনি সমুদ্রের ওপারে অভিযান চালাতে সক্ষম এমন নৌবহর গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।

    কিম তার নৌবাহিনী শক্তিশালী করার পার্টির নীতির প্রতি অনুগত থেকে নতুন বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের জন্য শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের ধন্যবাদও জানান।

    এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র কোরীয় উপদ্বীপে নিয়মিত কৌশলগত অস্ত্র মোতায়েন করছে বলেও সবাইকে সতর্ক করে দেন কিম।

    এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ায় বি-১বি স্ট্র্যাটেজিক বোমার-সহ অন্যান্য যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হয়েছে।

    বি-১বি বোমার বহর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিতভাবে যৌথ মহড়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া এই মহড়াগুলোকে যুদ্ধের প্রস্তুতি বলে সমালোচনা করে আসছে। যদিও সিউল বলছে, এগুলো কেবল প্রতিরক্ষামূলক।

  • বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করল ভারত

    বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করল ভারত

    ভারতীয় স্থল শুল্ক স্টেশন ব্যবহার করে বন্দর ও বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে দেওয়া দীর্ঘদিনের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করেছে ভারত। মঙ্গলবার দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশের এই সুবিধা বাতিল করেছে। খবর দ্য হিন্দুর।

    ভারতের রপ্তানিকারকরা—বিশেষ করে পোশাক খাতের—প্রতিবেশী বাংলাদেশকে দেওয়া এই সুবিধা প্রত্যাহারের জন্য নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই সুবিধার ফলে ভুটান, নেপাল এবং মিয়ানমারের মতো দেশে বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য বাণিজ্য প্রবাহ বাধাহীন ছিল। ভারত ২০২০ সালের জুনে বাংলাদেশকে পণ্য রপ্তানির এই সুবিধা দিয়েছিল।

    ৮ এপ্রিল জারি করা ভারতের কেন্দ্রীয় পরোক্ষ কর ও শুল্ক বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ২৯ জুনের জারি করা সার্কুলার বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। তবে আগের সার্কুলারের প্রক্রিয়া অনুযায়ী ইতোমধ্যে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি কার্গোকে ভারতীয় অঞ্চল ত্যাগ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

    ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার এমন এক সময়ে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশকে দেওয়া সুবিধা বাতিল করল, যার কয়েক দিন আগে ভারত, বাংলাদেশসহ বিশ্বের কয়েক ডজন দেশ ও অঞ্চলের বিরুদ্ধে উচ্চমাত্রার শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

    আগের বিজ্ঞপ্তিতে ভারতীয় বন্দর ও বিমানবন্দরগুলোতে যাওয়ার পথে দেশটির স্থল শুল্ক স্টেশন (এলসিএসএস) ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে তৃতীয় দেশে রপ্তানি কার্গো ট্রান্সশিপমেন্টের অনুমতি দেওয়া হতো। ভারতীয় বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের সরকারের এই সিদ্ধান্ত পোশাক, পাদুকা, রত্ন এবং গহনার মতো কয়েকটি ভারতীয় রপ্তানি খাতের জন্য সহায়ক হবে।

    বিশ্ব বাণিজ্যে পোশাক খাতে ভারতের অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ। ভারতীয় রপ্তানিকারকদের সংগঠন ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনসের (এফআইইও) মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন আমাদের কার্গো পরিবহনে অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকবে। অতীতে রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশকে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেওয়ার কারণে বন্দর ও বিমানবন্দরে স্থান কম পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করতেন।

    ভারতের পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন এইপিসি বাংলাদেশকে দেওয়া সুবিধার আদেশ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছিল। ওই সুবিধার ফলে দিল্লি এয়ার কার্গো ভবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গো তৃতীয় দেশে ট্রান্স-শিপমেন্টের অনুমতি পেতো।

    এপিসির চেয়ারম্যান সুধীর সেখরি বলেছেন, প্রত্যেক দিন গড়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি পণ্যবাহী ট্রাক দিল্লিতে আসে। যা কার্গোর চলাচল ধীর করে দেয় এবং এয়ারলাইন্সগুলো এই ধীরগতির কারণে অযৌক্তিক সুবিধা নিচ্ছে।

    ভারতীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, এই সুবিধা প্রত্যাহার করায় বাংলাদেশের রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রম ব্যাহত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, পূর্ববর্তী প্রক্রিয়ায় ট্রানজিটের সময় এবং ব্যয় হ্রাস করার লক্ষ্যে ভারতের ভেতর দিয়ে একটি বাধাহীন রুটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এখন এই সুবিধা বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা লজিস্টিক বিলম্ব, উচ্চ ব্যয় এবং অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে পারেন। এ ছাড়া নেপাল এবং ভুটান—উভয় দেশই স্থলবেষ্টিত। বাংলাদেশের সুবিধা বাতিল করায় এই দুটি দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারে। বিশেষ করে এই পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হবে।

    অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধি অনুযায়ী, স্থলবেষ্টিত দেশগুলোকে অন্য দেশে পণ্যের অবাধ পরিবহনের অনুমতি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে সংস্থাটির সকল সদস্যের। এর অর্থ এই জাতীয় ট্রানজিট অবশ্যই বাধাহীন হতে হবে এবং এসব পণ্য অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ও ট্রানজিট শুল্ক মুক্তও থাকবে। ভারত এবং বাংলাদেশ উভয়ই জেনেভা-ভিত্তিক সংস্থাটির সদস্য।

  • গত ২৪ ঘন্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৫ জন নিহত

    গত ২৪ ঘন্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৫ জন নিহত

    গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় গাজা জুড়ে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৮২ জন আহত হয়েছেন।

    হামাস মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানৌয়া উত্তর গাজার জাবালিয়া শহরে নিহত হয়েছেন, গ্রুপটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ইসরায়েলিরা গ্রুপের নেতৃত্ব এবং মুখপাত্রদের লক্ষ্য করে তাদের ইচ্ছা ভঙ্গ করবে না।

    জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, গাজার লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি আবারও তীব্র ক্ষুধা ও অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে, উল্লেখ করে যে তাদের অবশিষ্ট খাদ্য মজুদ মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য স্থায়ী হবে।

    স্থানীয় মিডিয়া এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ইয়োহমোর আল-শাকিফে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের দেরদগাইয়া এলাকায় হিজবুল্লাহর একজন কমান্ডারকেও হত্যা করার দাবি করেছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে কমপক্ষে ৫০,২০৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,১৩,৯১০ জন আহত হয়েছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস তাদের মৃতের সংখ্যা আপডেট করে ৬১,৭০০ জনেরও বেশি বলে জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

    সূত্রঃ আল জাজিরা

  • সম্পর্ক আরও গভীর করার সিদ্ধান্ত  চীন ও বাংলাদেশ

    সম্পর্ক আরও গভীর করার সিদ্ধান্ত চীন ও বাংলাদেশ

    চীন এবং বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার তাদের সম্পর্ক গভীর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীন বলেছে তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ণ সমর্থন প্রদান করবে।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

    বলা হয়েছে, চীনের নির্বাহী উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে বোআও ফোরাম ফর এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনের সাইডলাইনে এক বৈঠক করেন এবং উভয় নেতা দুটি দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও পরিচালনা করেন। ডিং শুয়েশিয়াং বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আপনার সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। এবং তিনি বলেন, চীন আশা করে বাংলাদেশ অধ্যাপক ইউনুসের নেতৃত্বে সমৃদ্ধি এবং উন্নতি অর্জন করবে।

    বৈঠকে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা দেশের দৃঢ় এক চীন নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, ঢাকা গর্বিত এটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যোগদানকারী প্রথম দক্ষিণ এশীয় দেশ।

    বিভিন্ন উন্নয়ন ও জীবনযাত্রা প্রকল্পের জন্য ঢাকা চীনা সমর্থন চেয়েছে এবং চীনের ঋণের সুদের হার ৩% থেকে ১-২% কমানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।  এছাড়া, চীনে বাংলাদেশের প্রকল্পগুলোর জন্য প্রতিশ্রুতি ফি মওকুফ করার জন্যও আবেদন করা হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টা চীনকে বাংলাদেশের প্রস্তুত-পোশাক, বৈদ্যুতিন যানবাহন, লাইট মেশিনারি, উচ্চ প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স, চিপ উৎপাদন এবং সোলার প্যানেল শিল্পসহ চীনা উৎপাদন শিল্পগুলির স্থানান্তর সুবিধা দেওয়ার জন্য সহায়তা চেয়েছেন।

    ডিং শুয়েশিয়াং বলেন, চীন ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পণ্যগুলির জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদান করবে, যা ঢাকা উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার দুই বছর পর হবে।  চীন ঢাকার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা শুরু করার আগ্রহও প্রকাশ করেছে।

    নির্বাহী উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দেশ মংলা বন্দর এবং দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ প্রকল্পের আধুনিকীকরণের জন্য তহবিল প্রদান করবে।

    তিনি আরও বলেন, চীন গত বছর বাংলাদেশ থেকে আম আমদানি করার জন্য একটি প্রটোকল স্বাক্ষর করেছে।  সরকারি কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ থেকে চীনে আম রপ্তানি এই গ্রীষ্মে শুরু হবে।  চীন বাংলাদেশের কাঠাল, পেপে এবং অন্যান্য জলজ পণ্যও আমদানি করবে, যা বাণিজ্যিক ঘাটতি কমানোর চেষ্টা হিসেবে করা হবে।

    তিনি বলেন, চীনা সরকার এবং তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশি ছাত্রদের জন্য আরও স্কলারশিপ প্রদান করবে। বর্তমানে হাজার হাজার বাংলাদেশি ছাত্র চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।

    উপ-প্রধানমন্ত্রী ঢাকা শিপিং কর্পোরেশন-এর জন্য ৪টি মহাসাগরগামী জাহাজ কেনার জন্য চীনা তহবিলের নিশ্চয়তা দেন।

    তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য একটি আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে।

    প্রধান উপদেষ্টা চীনের নেতৃত্বের প্রতি তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, আজকের বৈঠক বাংলাদেশ-চীন অংশীদারিত্বের আরও গভীর হওয়ার একটি মাইলফলক।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, চলুন আমরা একসঙ্গে কাজ করার সংকল্প করি, যাতে আমাদের দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে একটি নতুন যুগের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি, রেলওয়ে ও সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ প্রতিনিধি ড. খালিলুর রহমান এবং বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

  • ইসরাইলকে থামাতে ‘কঠোর ও সমষ্টিগত’ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

    ইসরাইলকে থামাতে ‘কঠোর ও সমষ্টিগত’ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বর্বরতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

    শীর্ষ এই ইরানি কূটনীতিক শনিবার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে একটি টেলিফোন আলাপচারিতায় কথা বলেন।

    এ সময় তিনি বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর প্রতি ইসরাইলের আগ্রাসন প্রতিরোধে ‘কঠোর ও সমষ্টিগত’ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। খবর প্রেস টিভির।

    আরাগচি গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক আগ্রাসন পুনরায় শুরু করার বিষয়টি উল্লেখ করেন। যা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে তেলআবিবের হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

    নতুন এই গণহত্যামূলক অভিযানে ১,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

    এর আগের ১৫ মাসের বর্বর সামরিক অভিযানে প্রায় ৬২,০০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে।

    মর্মান্তিক এই বর্বরতার মধ্যে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধমন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ গাজার কিছু অংশ দখল করার হুমকি দিয়েছেন, যদি হামাস ফিলিস্তিনে আটক রাখা জিম্মিদের মুক্তি না দেয়।

    আরাগচি তার বক্তব্যে ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের চলমান সামরিক আগ্রাসনেরও নিন্দা জানান। যেখানে নিরপরাধ নারী ও শিশুদের মৃত্যু এবং দেশের অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে।

    তিনি বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্বের ওপর জোর দেন। যেন তারা সহিংসতা ও দারিদ্র্যপীড়িত আরব উপদ্বীপ দেশ ইয়েমেনের মুসলিমদের সহায়তা করতে পারে।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণ তীব্র করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনের আনসারাল্লাহ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ‘ধ্বংস’ করার অঙ্গীকার করেছেন। যারা গাজার পক্ষে সানার সহায়ক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কাজ করছে।

    এ সময় প্রিন্স ফারহান ইসরাইলি শাসনের প্রাণঘাতী আগ্রাসনের নিন্দায় রিয়াদের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    তিনি গাজা সংকট উত্তরণ এবং চলমান উত্তেজনার বৃদ্ধি প্রতিরোধে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    সূত্র: মেহের নিউজ