স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে অন্য মানুষ দিয়ে ৩দিন ধরে ধর্ষণ


আবু বকর সুজন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে অন্য পুরুষ দিয়ে ৩দিন দরে ধর্ষণ করানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রী বাদী হয়ে স্বামীসহ ৫জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৫জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আটককৃতরা হলেন, ধর্ষিতার স্বামী নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার রামহরিতালুক গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে রাজু আহমেদ(২৬), মৃত সিরাজ মাঝির ছেলে বেলাল হোসেন(৩৫), আবুল কাশেমের ছেলে হৃদয়(২৫), চাঁন মিয়া মাঝির ছেলে মহিন(২৬), একই থানার মুন্সীতালুক গ্রামের শাহ আলমের ছেলে আবুল কালাম(৪৫)। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের মিরশ্বানী এলাকার ইসলামিয়া ব্রিক ফিল্ডের শ্রমিকদের থাকার ঘরে।

তথ্যটি নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ওই নারীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেপ্তার করি। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

থানায় দায়েরকৃত মামলায় জানা যায়, স্ত্রী বিউটি আক্তার (২০, ছদ্মনাম) ও স্বামী রাজুর সাথে বিয়ে হয় ২০২৩ সালে। বিয়ের পর থেকে রাজু নেশাগ্রস্ত হওয়ায় বনিবনা হচ্ছিল না। এ কারণে বিউটি বাবার বাড়ি নোয়াখালীর সুধারাম থানার মাব্দারতলী গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। চলতি মাসে প্রথম দিকে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে বিউটিকে পুনরায় রাজু বাড়ি নিয়ে যায়। গত ১৫ অক্টোবর কুমিল্লা শহরে থাকার কথা বলে রাজুর কর্মস্থল উপজেলার মিরশ্বানিতে ইসলামিয়া ব্রিক ফিল্ডে নিয়ে যায়। ওখানে নিয়ে ব্রিক ফিল্ড শ্রমিক বেলাল হোসেন একটি ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

১৬ অক্টোবর রাত ১০টার সময় বেলাল ও আবুল কালাম রুমে প্রবেশ করে আমার স্বামী রাজুর সাথে কিছুক্ষণ আলাপ করে কালাম বাইরে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর আমার স্বামী আমার মুখ চেপে ধরে এবং বেলাল আমাকে ধর্ষণ করে। চক্ষুলজ্জায় কাউকে কিছু জানাই নাই। ১৮ অক্টোবর রাতে হৃদয় ও মহিন উদ্দিন রুমে প্রবেশ করলে আবারো আমার স্বামী জোরপূর্বক আমার মুখ চেপে ধরে।

এসময় ওই দুই জন পালাক্রমে আমাকে ধর্ষণ করে। ২০ অক্টোবর রাতে হৃদয় আমার স্বামীর উপস্থিতিতে জোরপূর্বক ঘুমন্ত অবস্থায় আমাকে আবার ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় আমি চিৎকার চেঁচামেচি করলে হৃদয় পালিয়ে যায়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *